ইনফান্তিনোর সঙ্গে তাবিথের বৈঠক হয়নি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭

ঢাকায় বসে বাফুফের যেসব কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জাপানের টোকিওতে এএফসির কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল বৈঠক করবেন। ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলবেন, টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলবেন। বাস্তবতা হলো ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক হয়নি তাবিথের। শুরু থেকে যতটা সহজ মনে করা হয়েছিল, বাস্তবতা একেবারেই উলটো।

এশিয়ার ৪৭ দেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশের ফুটবল কর্মকর্তারা টোকিওতে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সফরসঙ্গী ছিলেন। সেখানে এত ভিড়ের মাঝে ১৮২ নম্বর র‍্যাংকিংয়ে থাকা বাফুফের সভাপতির পক্ষে ইনফান্তিনোর নাগাল পাওয়া অসম্ভব। তাবিথ আউয়াল ছাড়াও এএফসির কংগ্রেসে গিয়েছেন সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি বলেন, হোটেলের লবিতে ইনফান্তিনের সঙ্গে হায় হ্যালো হয়েছে। লবিতে দেখা হয়েছিল। এক্সক্লুসিভলি দেখা হওয়া তো কঠিন। কারণ এত রাস, যেখানে বিভিন্ন দেশের লোকজন এসেছে।'

এএফসির কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এসেছেন তার ভোটের প্রার্থনা করতে। ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন খলিফার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। তিন দিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে গতকাল শেষ দিন ছিল কংগ্রেস। এখানে ফিফার সভাপতি অতিথির ভূমিকায় থাকেন। এশিয়া কীভাবে ফুটবল উন্নয়ন করবে সেটা নিয়ে তারে ভাবনা। তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বক্তব্য রাখেন। সেখানেই তিনি বলেন, আমরা এএফসি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি ইনফান্তিনোকে। আগামী নির্বাচনে তাকে সমর্থন দিচ্ছি।' ইনফান্তিনো দেড় মিনিটের বক্তব্যে বলেছেন, 'আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।' এক-দুই কথাতেই শেষ হয় তার বক্তব্য এবং গতকালই বিমানে চেপে বসেন, জাপানের আকাশ ছেড়ে যান।

এএফসির তিন দিনের অনুষ্ঠানে প্রথম দুই দিন ছিল সেমিনার। শেষ দিন কংগ্রেস। এই তিন দিনই বাফুফের কর্মকর্তারা ছিলেন দর্শক আসনে। অনুষ্ঠান উপভোগ করা ছাড়া তাদের পক্ষে আর কিছুই করার থাকে না। চা বিস্কুটেই দিন পার করতে হয়। চায়ের আড্ডায় যদি কারো সঙ্গে আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক কিছু করা যায়।

এএফসির কংগ্রেসে এবার সাংবাদিকরে জন্য ব্যবস্থা ছিল না। ইউটিউবে চোখ রাখতে বলা হয়েছিল। এএফসির কংগ্রেসের সামনের সারিতে সাফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনোকে পাশাপাশি চেয়ারে বসতে দেখা গেছে। সাধারণত এধরনের অনুষ্ঠানে ফুটবলের বড় বড় ব্যক্তিত্বরা সামনের চেয়ারে বসেন। কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সামনের চেয়ারে বসেন। আর ফিফার সভাপতি যেখানে বসেন সেখানে বাংলাদেশের কারো চেয়ার পাওয়া কঠিন, যদি না সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হন। সালাহউদ্দিনকে ফিফা ও এএফসি সভাপতি সম্মান দিয়ে সামনের চেয়ারে বসিয়েছে এবং ইনফান্তিনোর পাশে বসানো; আরো বেশি সম্মানের। দেশের জন্যও এটা সম্মানের।

ইত্তেফাক/এএম