সম্পর্ক নষ্ট হওয়ায় ক্ষুব্ধ

দিনেদুপুরে গাড়ির ধাক্কায় ১৫০ ফুট দূরে ফেলে, রড দিয়ে মাথা থেঁতলে বন্ধুকে হত্যা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২১

চৌকাঠে নজরকাড়া ‘৮৩৮’ নম্বর প্লেট সাঁটা একটি দ্রুতগামী গাড়ি, দিনেদুপুরে রাজপথে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর পথচারীদের আতঙ্কের চিৎকার—চলচ্চিত্রের দৃশ্যকেও হার মানানো এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো ভারতের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (আওরঙ্গাবাদ)। প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে নিজের বন্ধুকে গাড়িচাপা দেওয়ার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাথা থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক তরুণ। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবারের এই বর্বরোচিত ঘটনায় নিহত হয়েছেন দেবেশ ওরফে বান্টি দীক্ষিত (৩৬)। আর বন্ধুকে রক্তগঙ্গা ভাসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সিডকো পুলিশ স্টেশনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মূল অভিযুক্ত পবন পরাশর (২২)।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি জিম সেশন শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বান্টি। ঠিক তখনই ওয়াংখেড়েনগরের বাসিন্দা পবন তাঁর ‘৮৩৮’ নম্বর প্লেটযুক্ত গাড়ি নিয়ে বান্টির পিছু নেন। শুরু হয় এক বিপজ্জনক ধাওয়া। এই শ্বাসরুদ্ধকর তাড়া শেষ হয় সিডকোর এন-৭ এলাকার মঙ্গেশ গ্যাস এজেন্সির কাছে এসে। পেছন থেকে তীব্র গতিতে ছুটে এসে বান্টির মোটরসাইকেলে সরাসরি সজোরে ধাক্কা দেয় পবনের গাড়ি। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে বান্টি সড়কে আছড়ে পড়েন এবং তাঁর মোটরসাইকেলটি প্রায় ১৫০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিডকো থানার পরিদর্শক অতুল ইয়েরমে জানান, মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘাতক পবন গাড়ি নিয়ে কিছুটা এগিয়ে যান এবং চাকা ঘুরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়ে রক্তাক্ত বান্টির সামনে ফিরে আসেন। এরপর গাড়ি থেকে নেমে সঙ্গে আনা একটি লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা বান্টির মাথায় একের পর এক নির্মম আঘাত করতে থাকেন। কোনো ধরনের চিকিৎসার সুযোগ মেলার আগেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বান্টি।

ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড দেখে আশপাশের পথচারী ও দোকানদারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জোন-২-এর উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) রত্নাকর নাভলেসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পবন সরাসরি গাড়ি চালিয়ে সোজা সিডকো পুলিশ স্টেশনে গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পেছনের কারণ তুলে ধরেন পবন। ডিসিপি রত্নাকর নাভলে জানান, অভিযুক্ত পবন ও নিহত বান্টি উভয়েই আলাদা আলাদা বারে ‘বাউন্সার’ হিসেবে কাজ করতেন। একসময় তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল, যা পরবর্তী সময়ে চরম শত্রুতা ও বৈরিতায় রূপ নেয়। বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে এই বিরোধ তৈরি হওয়াতেই তিনি চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

পুলিশের বিশেষ দল অভিযুক্তের দেওয়া এই স্বীকারোক্তি খতিয়ে দেখছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো গোপন বিরোধ বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করছে।

ইত্তেফাক/এনএন