সীমান্তে অনুপ্রবেশ, গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পালাল বিএসএফ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৯

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময় বাংলাদেশের শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিলে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্তের ৮৩৭/৪এস নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। 

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৩৭-এর ৪ নম্বর উপপিলারের এক পাশে পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকা। অন্য পাশে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএস বাড়ী সীমান্ত এলাকা।

শনিবার বিকেলে ওই সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সানিয়াজান নদীর বাংলাদেশ অংশে কয়েকজন শ্রমিক অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর ও বালু উত্তোলন করছিলেন। এ সময় ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএস বাড়ী ক্যাম্পের টহল দলের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য নদীতে নেমে শ্রমিকদের ওপর চড়াও হন এবং তাদের মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শ্রমিকদের চিৎকার শুনে স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা বিএসএফ সদস্যদের প্রতিরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দ্রুত নদী পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যান।

খবর পেয়ে বুড়িমারী কোম্পানি সদরের বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্ধ্যায় ওই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সীমান্ত অতিক্রম এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। তবে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম ও গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক কারিমুল ইসলাম বলেন, ‘পাথর তোলার সময় বিএসএফ বাধা দিয়েছে। এ সময় ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে বিএসএফের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ভয় দেখানোর জন্য সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদপত্র দিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এমএসআর