নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় জামাল উদ্দিন (৬০) ও কামরুল হাসান (২৪) নামে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ও রাতে এসব ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন জামাল উদ্দিন। এ সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর বাম পা ও উরুতে গুলি লাগে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর বাম পা ও উরুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এবং কী কারণে তাঁকে গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নেওয়াজপুর গ্রামের ওক্কাছ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হন কামরুল হাসান (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে রাকিব ও হারুন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। কামরুল হাসান রাকিব গ্রুপের সমর্থক এবং একটি মামলার আসামি। তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলেন না। কয়েক দিন আগে বাড়িতে ফেরেন।
শনিবার বিকেলে রাকিব ও কামরুল হাসান আলাইয়াপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাংলাবাজার এলাকার হারুন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কামরুল হাসানের বুকের ডান পাশে ও ডান বাহুতে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের আরএমও ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলিবিদ্ধ কামরুল হাসান হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর ডান বাহুতে বুলেটের আঘাত রয়েছে। পেটের ওপরের অংশেও বুলেটের মতো আরেকটি আঘাত পাওয়া গেছে, তবে সেখানে কোনো বুলেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
