ডক্টর রাশেদ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৫৫

সরু ভৈরব নামতে নামতে তলপেটে কোমরজল নিয়ে ধিকধিক করে এখনো বয়ে চলেছে।  গ্রাম ছেড়ে এঁকেবেঁকে দক্ষিণের কাঁটাতার ছুঁয়ে একসময় ভারতে ঢুকে গেছে। ওপারের বারান্দা কেটে খাঁজে খাঁজে শসার রসালো আবাদ করেছে দারিয়াপুরের কৃষকেরা। নাহ্, সাত বছরে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি; কেবল ভৈরবের তেজটা আর আগের মতো নেই। একসময় ওর বুকভরা জল ছিল। বর্ষাকালে তো ফুলে ফেঁপে একাকার হয়ে যেত। পাড় ছাপিয়ে দামাল ঢেউ তখন হামলে পড়ত গোপালপুরে। দু মাস নৌকা ছাড়া গতি থাকত না। সীমান্তের ওপারে বাঁধ হয়েছে। ভৈরব তাই মরতে মরতে এতদিনে আধমরা হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের ফিনফিনে কুয়াশার মধ্যে শুয়ে আছে ছেলেবেলার নরম নদী। ছবিগুলো মনে নিয়ে আনমনেই পাড় বেয়ে নিচে নামতে থাকল রাশেদ। কেলিময় উপত্যকার পরান জুড়ে হংসীদের আড্ডাখানা। দুই পাড়ের মোনাখালি আর দারিয়াপুর যেন সত্যিই হংসগাঁও। যার একেবারেই নেই, সেও পাঁচটা হাঁস পোষে এখানে। হাঁসগুলোর বিনি পয়সার চারণধাম এই ভৈরব। ভিড় ঠেলে এক হংসরাজ উঠে আসে। তারপর লম্বা গলায় কায়াত কায়াত করে অন্য একটা আড্ডায় গিয়ে যোগ দেয়। রাশেদ পাশ কেটে আরো নিচে নেমে যায়। খাড়ুতে থরে থরে ভাটফুল ফুটে আছে। ওদের গা থেকে বুনো গন্ধ নাকে লাগতেই ন্যাংটোবেলার জল-ঝাঁপ, দাড়িয়াবান্ধা, বাটুলে বাঁধা ইলাস্টিক আর বান্দারামিগুলো তিলে তিলে গড়া রাশেদের ভদ্র শরীরে বায়না তোলে। চঞ্চল হরিণের মতো আচমকাই রাশেদের মাথায় পাগলামি চাপে—শার্ট খুলে দেবো নাকি দৌড়! ভাবনাটা মনেই আটকে থাকে। ছেলেবেলার মতো পানিতে নামতে পারে না সে। কলাপসিবল জামার তলে কেবল হাঁসফাঁস করে ওঠে মাংসের গোল বল। শরীরে খামচে আছে ফরমাল অন্তর্বাস আর টাই-স্যুট। জল-জংলার এ তল্লাটে সে যেন নিঃস্ব এক পরবাসী। অথচ ভৈরব সব জানে। অজগাঁয়ে দুটো মনের কথা বলার মতো আড়াল তোলা কোনো পয়েন্ট ছিল না। স্কুল ফেরত লুবনার সঙ্গে যা কিছু প্রেমালাপ, ছোঁয়াছুঁয়ি তার সবটাই হতো ভৈরবপাড়ে। লুবনাকে যতবার সে ছুঁতে গেছে ততবারই নদী দেখে ফেলেছে ওদের। দশ বছর আগেও নদীর সঙ্গে আলাদা আব্রু ছিল না। ন্যাংটো সাঁতার দিয়ে শুরু। তারপর কিশোর থেকে তরতরে যৌবন। শরীরের সব জানত ভৈরব। বয়স বাড়লে নদীও কি আড়াল তোলে। যারা একসঙ্গে খেলত তারাও এখন পর্দা নামিয়ে দিয়েছে। বেপর্দা হবার ভয়ে নদীও লজ্জা পায় নাকি? অথচ কাপড় বাঁচাতে নির্দ্বিধায় হাফপ্যান্ট হাতে ধরে সাঁতার দেওয়া যেত। তখন কত সহজ ছিল ভৈরব। যৌবনে জোয়ার এলে সাবিনা, লুনা, মৌসুমিরা যেমন নিজ থেকেই আলাদা করে নিয়েছিল দেহটাকে তেমন করে নদীও কি রাশেদকে আলাদা করে দিয়েছে! মানুষের বয়স বাড়ে, বলিরেখা জমে। কিন্তু নদী! দৃশ্যগুলো ভাবতে গিয়ে খামোখাই আকাশে মুখ রাখল রাশেদ। থাবা থাবা কাশফুলের মতো ধপধপে হয়ে আছে নীল আকাশ। প্রতিদিনের বদলে যাবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চিহ্নগুলো বোঝা যায় না বোধ হয়। বড় একটা গ্যাপের পর চেনা দৃশ্যের মুখোমুখি হলেই কেবল পরিবর্তনের বড় ফাঁকগুলো ধরা পড়ে। সাত বছরেও যে অনেক কিছুই পাল্টাতে পারে তা ফারাক না থাকলে হয়তো আন্দাজ করাই যেত না। রাশেদকেও কম তছতছ করেনি এই সাত বছর। কল্পনাটা বাড়তে পারল না। হাঁটুজল সামনে নিয়ে থেমে গেল। প্যান্ট গোটাতে গিয়ে আরেকবার চারদিক ভালো করে দেখতে চাইল সে। নতুন একটা স্কুলঘর বাদে তেমন কিছুই বদল হয়নি। গেরুয়া আবাদ আর আকাশ সঙ্গে নিয়ে আগের মতোই নিরিবিলিতে আছে দারিয়াপুর। কেবল লুবনাটাই অন্যরকম হয়ে গেছে। সে এখন এক মেয়ের মা। আচমকাই রাশেদের মুখ থেকে বেরিয়ে গেল—লুবনা তুমি ভালো আছ? ওই তো ওপারের ফাঁকা মাঠ। একদিন তোমার ফর্সা হাতজোড়া মুঠিতে চেপে বলেছিলাম, তোমার জন্য আমি সব করতে পারি। আনন্দে উত্তেজনায় তোমার কিশোরী চোখের কোনায় জলের বিন্দু জমেছিল। সে মুহূর্ত! সে দৃশ্য তোমার মনে পড়ে না! অথচ এই সাত বছরে সাতবারের বসন্ত তুমি সহ্য করতে পারলে না! আমি তো তোমার জন্য মরতেও চেয়েছিলাম। লম্বা পাথারে দাঁড়িয়ে একাকী হা হা করে উঠল রাশেদ—তুমি একবারও আমার কথাটা ভাবলে না। লুবনা, কত সহজেই তুমি ভালোবাসা বিক্রি করে দিতে পারলে! ছিঃ, আমি এখন কোথায় যাব বলো?

রাশেদ নয়, ডক্টর রাশেদ। প্রোটিন কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করা রাশেদ আগের মতোই আছে। লুবনাকে নিয়ে চারপাশের সবকিছু কেবল পাল্টে গেছে। লুবনার বালিকা বয়সের মুখটা মনে ধরে বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারল না সে। নদী এতক্ষণে পেছনে পড়ে গেছে। ধানকাটা মাঠ ধরে একটা কাকতাড়ুয়ার মতো হাঁটতে থাকল সে। ধান টোকানো পাঁচটা শালিক আকাশে উড়াল তুলে দূরে গিয়ে ফের বসে পড়ল। নাহ্, কোনোভাবেই লুবনার মুখটা সরানো যাচ্ছে না। গত দু বছরে কম করে হলেও পঁচিশটা মেয়ের ছবি দেখানো হয়েছে রাশেদকে। স্ক্যান করে পাঠানো ফটোগ্রাফগুলো তাত্ক্ষণিক উত্তেজনা আনলেও পরক্ষণেই লুবনার বেণী তোলা কিশোরীমুখ এসে ছায়া ফেলেছে ছবিগুলোর ওপর। গার্জেনরা ঠিক বুঝতে পারেননি। শরীরের চেয়ে ভালোবাসার দামটা রাশেদ জানে। ক জন আর ভালোবেসে শরীর দান করতে পারে। রাশেদ তো আর সন্ন্যাসী নয়! এটুকু নিশ্চিত যে, তাকে আজ হোক কাল হোক বিয়ে করে সংসারী হতে হবে। কিন্তু লুবনাহীন রাশেদ কাকে নিয়ে ঘর বাঁধবে? রাশেদ কোনোভাবেই ভাবনাগুলো একসঙ্গে করতে পারল না, এলোমেলো হয়ে গেল। মনের কথাটা কেউ জানে না। মনটা লুবনার মতো না হলেও অন্তত মুখটা ওর মতো পাওয়া গেলে সে হয়তো খানিক সান্ত্বনা পেত। কিন্তু আজো তেমন মেয়ে খুঁজে পায়নি সে।

লুবনাকে ছাড়া সে কি কোনোদিনও কাউকে মনের ভেতর বসাতে পারবে না! নাছোড় মাছির মতো ওর মুখটাই শুধু উপর্যুপরি দখল করে নেবে তাকে? ওর শেষ কথাগুলো কানের কাছে বড় বেশি করে গুনগুন করে ওঠে। সেন্ট মেশানো প্রথম চিঠিটা রাশেদ ছিঁড়তে পারেনি। সার্টিফিকেটের ভাঁজে তেমনই তুলে রেখেছে। সার্টিফিকেটের চেয়ে কোনো অংশে কম দামি নয় লাভ লেটারটা! মনে পড়ে, স্যান্ডেলে ধুলো উড়িয়ে একদল দামাল ছেলেপুলের সঙ্গে স্কুলে আসত রাশেদ। লুবনা বুকে বই চেপে হেঁটে হেঁটে লম্বা মাঠ পেরিয়ে যেত। ক্লাস সেভেন কি এইট হবে। কোথা থেকে যেন কী হয়ে গেল। শ্যামলী-বাবলিদের ভিড় থেকে কোনো একদিন লুবনার মুখটাই যেন বড় হয়ে আকাশে ঝুলে গেল। ঠোঁট, চিবুক, চাউনি মানে ওর সবকিছুই ছবি হয়ে গেল। কত রঙিন ছিল সেসব দিন! রোমঞ্চকর আর মন কেমন করা ভালোলাগা নিয়ে মেল ট্রেনের মতো চলে যেত রবি থেকে বৃহস্পতি। শুক্র-শনিবারটা বেশি ফাঁকা হয়ে আসত তখন। ল্যাংচে ল্যাংচে দু দিন পার হলেই ফের রবি থেকে বৃহস্পতির ঘোড়া  ছুটত। জোছনারাতে চোখে ঘুম নামত না। পূর্ণিমার চাঁদটাই যেন লুবনা বনে যেত তখন। ফ্ল্যাশব্যাকে ক্রমাগত উঠে আসা দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে গিয়ে আবারও আফসোস করে উঠল রাশেদ—লুবনা তুমি ভালো আছ তো! ভালো থেকো লুবনা। এই তো সেই মোনাখালি মাঠ। এক পৌষে মরা ভৈরবের জল ভেঙে পার হতে গিয়ে লুবনা বলেছিল—আমরা এখন থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে যাব না। ওর নরম হাতটা যেন মোম হয়ে রাশেদের হাতের মধ্যে গলে পড়েছিল। সেই ওম ওম উষ্ণতা এখনো তার হাতে লেগে আছে। সেদিন আধ হাঁটু পানিতে কচুপাতা রঙের পাজামা টানা শঙ্খ পা দুটো রাশেদের বুকের মধ্যে কাঁটা হয়ে আছে। অন্য কারো অমন সুন্দর পা নেই, অন্তত রাশেদের তাই বিশ্বাস। ওরা সেদিন ভৈরবের জল কাদা করে মোনাখালি মাঠে উঠে এসেছিল। তারপর লোকলজ্জার ভয়ে দুজন দু পথ দিয়ে স্কুলে ঢুকেছিল। পৃথিবীর কেউ তাদের এ মিলনদৃশ্য দেখতে পায়নি। তিন রাত উত্তেজনায় রাশেদ ঠিকমতো ঘুমুতে পর্যন্ত পারেনি। অথচ ক্লান্তির ছায়া চোখে পড়েনি। কী ভীষণ এক রংমাখা সময় উড়াতে উড়াতে দু বছর চলে গেছে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর। শ খানেক চিঠি। লুবনা যখন জেলা শহরের সরকারি কলেজে দর্শনে অনার্স পড়তে গেল, ঠিক তখনি মালয়েশিয়ায় পিএইচডি’র অফারটা পেয়ে গেল রাশেদ। ক বছরে দুই জনের ভালোবাসাটা ভালোই জানাজানি হয়েছিল। ওপেন সিক্রেটের মতো দুই পরিবারের সকলেই হয়তো ভেতরে ভেতরে রাজি ছিল। স্বপ্ন যখন বাস্তবকে ছুঁয়ে স্বপ্নই থেকে যায় তখন তো আনন্দ বাড়ি আসে। পিঁড়ি পেতে গান ধরে—ভালোবাসি, ভালোবাসি। আজলা ভরা লুবনার মুখ আর একটা আকণ্ঠ চুমু নিয়ে প্লেনে উঠেছিল রাশেদ। শেষ কথাগুলো খোদাই করা আছে বুকের মধ্যে।

প্রবাসজীবনের এক বছরের মাথায় গিয়ে সব ওলট-পালট হয়ে গেল। লুবনাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও নাকি এসেছিল। সব শুনে রাশেদের বাবা বলেছিলেন, ওরা যখন পরস্পরকে এতই ভালোবাসে তবে আমার আপত্তি নেই। সেকেন্ড সেমিস্টারটা শেষ করে সামনের ডিসেম্বরে রাশেদ আসবে। তখন বিয়ে দেওয়া যাবে। পারস্পরিক মতামতের খবর শুনে রাশেদ আহ্লাদে ভেসে উঠেছিল। ভেসেই ছিল। তারপর একদিন ফোলা বেলুনে কেউ সুচ দিয়ে হুল ফোটাল। বাবা নিজেই টেলিফোন করলেন। গলার স্বর সমবেদনার মতো—বাবা কিছু মনে কোরো না...। রাশেদ অস্থির হয়ে জিজ্ঞাসা করল, কী হয়েছে? বাবার স্বরটা আরো শান্ত হয়ে এল—মানুষ যে এত বেইমান হয় বুঝতেই পারিনি রে খোকা। সৌদিফেরত এক ডাক্তার ছেলের সঙ্গে একদিনের দেখাতে লুবনার বিয়ে হয়ে গেছে। অবিশ্বাসে ওপাশ থেকে চিত্কার করে উঠল রাশেদ, এসব কী আজেবাজে কথা বলছেন! ঘটনা কী হয়েছে, সত্যি করে বলুন। বাবা বোধহয় আরো মিনিট পাঁচেক সান্ত্বনা দিলেন, কিন্তু ততক্ষণে রাশেদের কানে তালা লেগে গেছে। ফোন ছেড়ে দিয়ে সে পাগলের মতো ছটফট করতে লাগল। অন্যমনস্ক মাথায় সে প্রথমে এক বন্ধুকে ফোন করল। তারপর লু্বনার মোবাইলে কল দিল। কিন্তু ধরা গেল না। দুইবার রিং হবার পর কেটে গেল। তার মানে লুবনা কথা বলতে চায় না। রাতেও সে বহুবার চেষ্টা করল। একসময় যান্ত্রিক নারীকণ্ঠ কানে এল—দুঃখিত, এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটু পর আবার ডায়াল করুন। আবার চেষ্টা করার মানেই হয় না। লুবনা সেট বন্ধ করে দিয়েছে। চেষ্টা যে রাশেদ করেনি তা নয়, ভালোই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ততদিনে সিম পাল্টে নিয়েছিল লুবনা। তারপর আজ দু বছর হয়ে গেল, একটি কথাও আর বলা হয়নি।

দুই বছরে রাশেদ  কাউকেই লুবনার মুখের সঙ্গে মেলাতে পারেনি। আসলে মেয়েগুলোর কোনো দোষ নেই। রাশেদের সমস্যা হচ্ছে, কোনো মেয়েকেই তার মনে ধরে না। তার কেবলই মনে হয় পৃথিবীতে লুবনাই একমাত্র মেয়ে যে তার সব তৃষ্ণা মেটাতে পারবে। কোনো মানে নেই। মনটা আকাশের মতো হলে ভালো হতো। কতকিছুই তো হয় আকাশে। রং বদলায়। পুরনো রং মুছে নতুন রং বসে। আকাশ তো অতীত নিয়ে কাঁদে না! এভাবে সে আর কতদিন মেয়ে দেখে বেড়াবে। ভদ্রসমাজে লোককথা বাঁচিয়ে চলতে গেলে বিয়ে তো তাকে করতেই হবে। আজ সে যাকে দেখতে যাচ্ছে, সে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে। মেয়েটি নাকি দশ গাঁয়ের মধ্যে সুন্দরী। ঘটকের বর্ণনায় এ পর্যন্ত যে মেয়েটিকে দেখেছে সে-ই নাকি পছন্দ করেছে। সর্বশেষ প্রস্তাব ছিল, গেজেটেড অফিসার। এক দাগে পছন্দ, কোনো চাহিদা নেই। কিন্তু মেয়ের বাবার কথা উচ্চশিক্ষিত ছাড়া মেয়েকে কারো হাতে তুলে দেবেন না। রাশেদ ঠিক করেছে সরাসরি মেয়েটাকে দেখে কথা বলবে। সে কারণে ইচ্ছে করেই পাঠানো ছবি দেখেনি সে। মেয়েটা রাশেদের ছবি দেখেছে। সে রা করেনি, লজ্জা মেখে মুচকি হেসেছে কেবল। গার্জেনরাও পরস্পর মুখ চেপে আছে। তার মানে এখন শুধু রাশেদের পছন্দ হলেই হবে। লুবনাকে আর ইহজনমে পাওয়া যাবে না—একথা জেনেও রাশেদ মনকে প্রবোধ দিতে পারছে না। তাই বলে কি রাশেদের মানবজন্ম বৃথা যাবে! তা তো হয় না। বলতে গেলে ঘোরের মধ্যেই সে আজ নতুন মেয়েটাকে দেখতে যাচ্ছে। ন্যাকা বিলের আধ হাঁটুপানি ভেঙে যেতে যেতে লুবনার শঙ্খ পা জোড়া পুনরায় চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কচুপাতা পাজামার নিচে সাদা শঙ্খের মতো পা জোড়া। রাশেদ থামে না। কল্পনার চোখ নামিয়ে এলোমেলো পা ফেলে সামনের দিকে হাঁটতেই থাকে রাশেদ। পাথার শেষ হয়ে আসে। তারপর নিরিবিলি মোনাখালীর ভেতর ঢুকে পড়ে সে।