৩৯৬টি কবর খুঁড়ে চিরবিদায় নিলেন হাফেজ শিকদার, অপূর্ণ রয়ে গেল ৪০০ ছোঁয়ার ইচ্ছা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩১

অন্যের শেষ ঠিকানা তৈরি করতে করতে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করেছেন পটুয়াখালীর কুয়াকাটার হাফেজ শিকদার। দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে নিজ হাতে ৩৯৬টি কবর খনন করেছেন তিনি। স্বপ্ন ছিল ৪০০টি কবর খননের মাইলফলক স্পর্শ করার। তবে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন এই পরোপকারী মানুষ। যাঁর হাতে তৈরি হয়েছে শত শত মানুষের শেষ ঠিকানা, তার নিজের কবরও নির্ধারণ করা ছিল আগে থেকেই।

হাফেজ শিকদার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও এলাকার মানুষের কাছে তার পরিচিতি ছিল ধর্মভীরু, সদালাপী ও পরোপকারী হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কারও মৃত্যুর খবর পেলেই পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই কবর খনন করতে ছুটে যেতেন তিনি।

হাফেজ শিকদারের মেজো ছেলে মো. হারিস শিকদার ও ছোট ছেলে এস এম আলমাস জানান, এলাকায় কিংবা আশপাশের কোথাও কারও মৃত্যুর খবর শুনলেই তাদের বাবা কবর খননে চলে যেতেন। তার ইচ্ছা ছিল ৪০০টি কবর খনন করে সেই সংখ্যা পূর্ণ করা। নিজের মৃত্যুর কথা ভেবে বাড়ির সামনেই কবরের জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন তিনি। কিনে রেখেছিলেন নিজের কাফনের কাপড়ও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন হাফেজ শিকদার। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা খানকায়ে সালেহিয়া কমপ্লেক্স মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয় নিজের জন্য আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখা জায়গায়।

৪০০টি কবর খননের স্বপ্ন পূরণ না হলেও বিনা পারিশ্রমিকে ৩৯৬টি কবর খনন করে মানুষের পাশে থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন হাফেজ শিকদার। তার এই মানবিক কাজের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

ইত্তেফাক/এসজে