শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে গ্রামছাড়া

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৬

নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থাতেই আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে এক যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী ওই যুবকের বয়স ৩৫ বছর এবং তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা ও পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি নিজের প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোনকে (২১) বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেছিলেন।

তবে আপন দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে এবং ‘ইসলাম ধর্মে একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই’—এমন যুক্তিতে বদলগাছীর সেই ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তারা। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সোমবার রাতে দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুর উপজেলায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই যুবক।

শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। তরুণ প্রজন্মের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন অজুহাত দেখিয়ে তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে একদল মানুষ উল্লাস করছেন। এ সময় তাদের মারধর করা হয়, মুখে চুনকালি মাখানো হয় এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রামছাড়া করা হয়। বর্তমানে ওই দম্পতি ও দুই বোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী যুবকের শ্বশুর ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, রাতে গ্রামের লোকজন এসে তার দুই মেয়ে ও জামাতাকে নানাভাবে হেনস্তা করে মারধর করে এবং জোরপূর্বক গ্রাম থেকে বের করে দেয়।

নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন জানান, ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা জায়েজ রয়েছে।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএম