পানি দূষণের কারণে বিশ্ব এক অদৃশ্য সংকটে রয়েছে। অতিমাত্রায় দূষণের ফলে বিশ্বের কিছু দেশ তাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। ‘কোয়ালিটি আননোন : দ্য ইনভিজিবল ওয়াটার ক্রাইসিস’ শিরোনামে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, দূষণ, খরা, ঝড়ের তাণ্ডব, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষির ফলন হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হারাচ্ছে দেশগুলো। তাছাড়া ব্যাক্টেরিয়া, কেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের কারণে পানি দূষিত হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়াসহ জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি হয়েছে। দূষণ মানুষ ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নীতি-নির্ধারকদের এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, বিশুদ্ধ পানি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। পানির গুণমানের অবনতি হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস, স্বাস্থ্যের অবনতি, খাদ্য উত্পাদন হ্রাস এবং বহু দেশে দারিদ্র্যকে বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, সরকারগুলোকে পানি দূষণ মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে; যাতে দেশগুলো ন্যায়সঙ্গত এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বাস্তুতন্ত্রেই নয়, লবণাক্ততা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানে বিরূপ প্রভাব ফেলে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, লবণাক্ততার জন্য সারাবিশ্বে ফসলের যে ক্ষতি হয় তাতে ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের সমান। এটি বাংলাদেশের মতো একটি দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। তাছাড়া উপকূলী অঞ্চলে স্বাস্থ্য খাতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। শুধু বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের নবজাতক মৃত্যুর ২০ শতাংশের জন্য দায়ী এই লবণাক্ততা। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও খিঁচুনির জন্য লবণাক্ত পানি অনেকাংশে দায়ী। এ কারণে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মৃত্যুও হয়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এই প্রবণতা চার শতাংশ বেশি লক্ষ করা গেছে। তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে শিশুদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলনামূল বেশি। তাই পানি দূষণের বিপদগুলোর দিকে দ্রুততার সঙ্গে বৈশ্বিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক
