ভোটে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে চার সমীকরণ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষপর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি পিছিয়ে পড়ার জোর শঙ্কায় রয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব-ইসরায়েলি নাগরিক, যাদের রেকর্ড উপস্থিতির কারণে লিকুদ পার্টির আসন কমার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরাজয় এড়াতে সমর্থকদের শেষ মুহূর্তে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা মূলত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে কোনো একক দল নয় বরং প্রাপ্ত মোট ভোটের হারের ভিত্তিতে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে দলগুলোর আসন নির্ধারিত হয়। তবে ভোটে প্রত্যাশিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সাংবিধানিক নানা জোটবদ্ধ সমীকরণের কারণে আবারও নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে সরকার গঠনের চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রথম সমীকরণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল তুলনামূলক কম আসন পেলেও তার বর্তমান কট্টর ডানপন্থি মিত্র কিংবা ছোট দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ৬১টি আসন জোগাড় করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আসন কম পাওয়া সত্ত্বেও ফের সরকারপ্রধান হিসেবে মসনদে বসবেন তিনি।

দ্বিতীয় সমীকরণে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আইজেনকোতের দল এককভাবে এগিয়ে থাকলে এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে পারলে তারা নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মতো আরব দল ‘রা’ম’ আবারও বিরোধী জোটে যুক্ত হয়ে সরকার গঠনে তুরুপের তাস হতে পারে।

তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটনের পরামর্শে একটি ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ গঠনের আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে এ ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই কাঠামোর আওতায় দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোত একত্রে বসে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় প্রশাসন পরিচালনা করতে পারেন।

চতুর্থ ও সর্বশেষ সম্ভাবনাটি হলো একটি ‘সংখ্যালঘু সরকার’। কোনো জোটই যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ছোট ছোট দলগুলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে।

ইত্তেফাক/এনএন