হুয়াওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই :ট্রুডো

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৩

চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা মেং ওয়াঝৌকে গ্রেপ্তারে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলে জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এ ঘটনায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ১ ডিসেম্বর হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা অনেকের।

চীন এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হুয়াওয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা মেংকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অটোয়া ও ওয়াশিংটনকে এ আটকের কারণ পরিষ্কার করে জানাতেও বলেছে তারা। টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী মেং এর এ আটকের ঘটনায় কানাডার ওপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরের মধ্যে ট্রুডো এ প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। বৃহস্পতিবার মন্ট্রিয়লে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মেংকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি কানাডার সরকার দিনকয়েক আগে জেনেছে, যদিও কোনো ধরনের ভূমিকা রাখেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ, যাদের স্বতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা আছে, এ বিষয়ে আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই।’

১ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করলেও কানাডীয় কর্তৃপক্ষ মেংকে আটকে রাখার কথা বুধবারের আগে জানায়নি। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মেংয়ের গ্রেপ্তারের যোগ থাকতে পারে বলে বৃহস্পতিবার বেশকিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছিল। ওই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সন্দেহে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত চলছে। শুক্রবার কানাডার আদালতে হুয়াওয়ের গ্রেপ্তার নির্বাহীর জামিন শুনানি হওয়ার কথা।

এদিকে চীনের বৃহত্ মোবাইল কোম্পানি হুয়াইওয়ে এবং জেটটিইর তৈরি টেলিকম পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে জাপান সরকার। সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে শঙ্কা থাকায় তারা এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানায়, সাইবার হামলায় ব্যবহার করা হয় এমন ধরনের ভাইরাস থাকার শঙ্কায় এ দুই কোম্পানির তৈরি পণ্যের ব্যবহার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ জানানোর পর জাপান এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এতে আরো বলা হয়, এই দুই কোম্পানির যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যও সরকারি কাজে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।