রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগে এক ডাইনিং কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটলেও মোবাইল ফোনসেটটি এখনো উদ্ধার হয়নি। মোবাইল ফোনসেটটি আদৌ চুরি হয়েছিল নাকি ঘটনাটি সাজানো—তা পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে কর্মচারী আবদুল মান্নানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক শিক্ষার্থী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগ তুলে পেটানো হলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্যেষ্ঠ ছাত্র হিসেবে তাদের বাড়তি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ। এর পেছনে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘প্রতিশোধস্পৃহা’ও কাজ করেছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। নিহত মান্নান মোবাইল ফোনসেট চুরি করেছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ এখনো পায়নি।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন খান বলেন, এ ঘটনায় আতিকুর, ফুয়াদ, নাইম ও এনামুল নামে চার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে নাইম এই হত্যার সঙ্গে জড়িত জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল আজিজ হলের ৩১৮ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমানের মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগে গত ৩০ জুলাই রাতে ক্যান্টিনের তিন কর্মচারীকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে মান্নানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার মামা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রদের মধ্যে সিনিয়র কয়েকজন ডাইনিংয়ে গিয়ে খাবার খেতেন না। তাদের খাবার ও পানি পৌঁছে দেওয়া হতো রুমে। হত্যায় অভিযুক্ত আতিকুরসহ চার শিক্ষার্থী মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাদের ফলাফল বের হলেও ছাত্রাবাসে অবস্থান করতেন। তারা আগের মতোই বাড়তি সুবিধা চাইছিলেন। তবে মান্নান এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেননি। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্রাবাসে থাকলেও আগের মতো সম্মান পাচ্ছিলেন না তারা। ডাইনিং থেকে খাবার তাদের রুমে পৌঁছে দেওয়া হতো না। এ কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এরপর তারা মান্নানের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে তাকে আটক করে রুমে এনে বেধড়ক পেটায়।
এক পর্যায়ে মান্নান স্বীকার করেন যে, তিনি মোবাইল ফোনসেটটি চুরি করেছেন। সেটি ডাইনিং রুমে রাখা আছে। এরপর ডাইনিং রুমে নিয়ে যাওয়ার পর মান্নান চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঐ মুহূর্তে আরো পাঁচ/ছয় শিক্ষার্থী মান্নানকে পেটায়।
তবে নিহতের ভাই আলমগীর হোসেন জানান, হত্যায় অভিযুক্ত আতিকুরের পাশের রুমে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতেন মান্নান। বিনিময়ে তিনি কিছু টাকা পেতেন। মোবাইল ফোনসেট চুরির পর আতিকুর জানতে পারেন, মান্নান পাশের রুমে খাবার দিতে এসেছিলেন। শুধু এ কারণেই তার কাঁধে চুরির দায় দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন খান জানান, মান্নানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনসেটটি এখনো উদ্ধার হয়নি। ঐ মোবাইল ফোনসেটটি আদৌ চুরি হয়েছে কি না তাও আমরা নিশ্চিত নই। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনসেট ট্র্যাকিংয়ে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
