তাড়াশে একচেটিয়াভাবে চলছে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসা। ব্যবসায়ীরা সড়কের আশপাশে ও বসতঘরের কাছেই স্তূপ করে রেখে দিচ্ছেন দুর্গন্ধযুক্ত মুরগির বিষ্ঠা। পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জনসম্মুখেই চলছে এসবের লোড-আনলোড। যার তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও কাঁচা-পাকা গ্রামীণ সড়কের অনেকটা অংশ জুড়ে ফেলে রেখেছেন মুরগির বিষ্ঠা। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে বসবাসকারী অনেকের বসতঘরের কাছেই দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। সেখান থেকে মত্স্যচাষিরা তাদের সুবিধামতো ভটভটি ও অটোভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছেন পুকুরগুলোতে। বিষাক্ত মুরগির বিষ্ঠা কোনোরকম প্রক্রিয়াজাত না করেই মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।
মত্স্যচাষি আব্দুল মজিদ, খয়বার হোসেন, আজম আলী বলেন, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে মাছের খাবারের পেছনে ব্যয় অনেকটাই কম হয়। প্রক্রিয়াজাত করতে অনেক সময় লেগে যায় বলেই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে সরাসরি পুকুরে ফেলেন তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মত্স্যচাষিদের কাছে মুরগির বিষ্ঠার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত করা না করা মত্স্যচাষিদের কাজ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, মুরগির বিষ্ঠা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরির জন্য প্রায় চার মাস মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়। এভাবে ১০০ কেজি বিষ্ঠা থেকে ৫০ কেজির মতো টিএসপির গুণাগুণ সমৃদ্ধ জৈব সার পাওয়া সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, মুরগির বিষ্ঠার ব্যবসায়ীদের ধরতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। পাশাপাশি মত্স্য দপ্তরের মাধ্যমে মত্স্যচাষিদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চলমান রয়েছে।
