ফ্রান্সে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে মেক আওয়ার প্ল্যানেট গ্রেট এগেইন (এমওপিজিএ) কর্মসূচি। এর আওতায় নির্বাচিত আন্তর্জাতিক গবেষকেরা ১২ মাস ফ্রান্সে থেকে গবেষণা করতে পারবেন। তাদের প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ফ্রান্সে গিয়ে প্রাথমিকভাবে থাকা ও স্থায়ী হওয়ার খরচের জন্য এককালীন প্রায় ৬৯ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।
গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কর্মসূচির জন্য আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬। তবে আবেদনের সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
বৃত্তিতে কত টাকা পাওয়া যাবে
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত গবেষকেরা পাবেন—
মাসিক ভাতা: ২ হাজার ৫০০ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা।
এককালীন স্থাপন ভাতা: ৫০০ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৯ হাজার টাকা।
গবেষণার মেয়াদ: ১২ মাস।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা: নির্ধারিত শর্তে স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সহায়তা।
এই হিসাবে ১২ মাসে মাসিক ভাতা বাবদ একজন গবেষক মোট প্রায় ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাবেন। এর সঙ্গে এককালীন স্থাপন ভাতা যোগ হলে মোট আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
ইউরোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল। এখানে ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবরের আনুমানিক বিনিময় হার—১ ইউরো সমান ১৩৮ টাকা ১৬ পয়সা—ধরে হিসাব করা হয়েছে।
কোন কোন বিষয়ে গবেষণা করা যাবে
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে উৎসাহিত করতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
১. পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ও পরিবেশবিষয়ক বিজ্ঞান।
২. জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন।
৩. জ্বালানি রূপান্তর।
৪. পরিবেশগত সমস্যার সামাজিক প্রভাব।
৫. মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সমন্বিত স্বাস্থ্য।
গবেষণা প্রস্তাবে উদ্ভাবনী ধারণা, বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব এবং পরিবেশ ও সমাজের ওপর সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
এই বৃত্তি মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রারম্ভিক গবেষকদের জন্য। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পিএইচডি সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে থাকা গবেষকেরা আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত গবেষণাক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ফ্রান্সের কোনো উপযুক্ত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
তবে ২০২৭ সালের কর্মসূচির ক্ষেত্রে পিএইচডি অর্জনের সময়সীমা, নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা থেকে যাচাই করতে হবে।
আবেদনে যেসব নথি লাগবে
আবেদনকারীদের সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে—
গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্ত।
পিএইচডি সনদ অথবা ডিগ্রি সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র।
ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়কের জীবনবৃত্তান্ত।
গবেষণায় সহায়তার প্রত্যয়নপত্র।
সুপারিশপত্র।
পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের অনুলিপি।
গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, সময়সূচি ও সম্ভাব্য প্রভাবসংবলিত প্রস্তাব।
নথির নির্দিষ্ট ধরন, ভাষা ও জমা দেওয়ার নিয়ম সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।
আবেদন করবেন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের প্রথমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা দেখে যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এরপর উপযুক্ত ফরাসি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে হবে।
গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিজের প্রতিবেদনে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৭ সালের কর্মসূচির সময়সীমা ও আবেদনপদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই তারিখকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
