ঈশ্বরদীতে মাদকের বিকল্প ব্যথানাশক ট্যাবলেট

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:০০

ঈশ্বরদীতে মাদকসেবীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাদকের বিকল্প ঘুমের উপাদান মিশ্রিত ব্যথানাশক ট্যাবলেট। এই ট্যাবলেট ৫০, ৭৫ ও ১০০ মিলিগ্রামের পাতা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই দেদার বিক্রি হচ্ছে। মূলত আর কোনো ব্যথানাশক ট্যাবলেটে যখন কাজ হয় না, তখন এই ট্যাবলেট ব্যবহারের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। ইয়াবা-হেরোইন-ফেনসিডিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম দামে এই ট্যাবলেট এখন মাদকসেবীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন নামে এই জাতীয় ট্যাবলেট রয়েছে। দোকানে ওষুধ কিনতে আসা এক তরুণ জানায়, ৭৫ মিলিগ্রামের দুটি ট্যাবলেট সে প্রতিদিন পানি দিয়ে গিলে খায়। এই ট্যাবলেট খেলে ঘুম ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের ফিলিংস পাওয়া যায় বলে সে জানায়।

বাজারের ওষুধের দুই জন দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ট্যাবলেট ইদানিং ঈশ্বরদীতে মাদকসেবীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। মাদকসেবীদের শতকরা ৬৫ ভাগই এখন এই ট্যাবলেটে আসক্ত। ট্যাবলেটের খুচরা মূল্য ২০-৩০ টাকার মধ্যে হলেও ৫০-৬০ টাকা দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়াবা প্রতি পিস ১২০-২০০ টাকা, হেরোইন ১০০-১২০ টাকা পুড়িয়া এবং ফেনসিডিল ১,০০০-১,২০০ টাকা দামে বিক্রি হলেও সমস্যা অনেক।

ওষুধ ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন, ফয়সাল পারভেজ জানান, অন্যান্য মাদকের দাম বেশি হওয়ায় এবং পুলিশী তত্পরতার কারণে নিয়মিত গ্রহণ করতে না পারায় মাদকাসক্তদের শরীরে ব্যথা, অস্বস্তি ও নার্ভে খিঁচুনির সৃষ্টি হয়। এই জাতীয় ট্যাবলেট ব্যবহার করলে এসব সমস্যা হতে পরিত্রাণ লাভ করা যায় বলে মাদকাসক্তরা মনে করে।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের এই ওষুধ প্রেসক্রিপশনের জন্য ডাক্তারদের কাছে ধরনা দিতে হয় না। কারণ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এই ওষুধের বাজারে বিপুল চাহিদা। তাই ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনেও তেমনভাবে এই জাতীয় ট্যাবলেটের নাম তেমন একটা লেখা হয় না। দোকানদারদের চাহিদা মোতাবেক কোম্পানিগুলো এই জাতীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করতে না পারায় কোনো কোনো দোকানদার দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে।

ঈশ্বরদী হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, ব্যথানাশক ট্যাবলেটে যখন কোনো কাজ হয় না, সে সময় সাময়িকভাবে এই ট্যাবলেট ব্যবহার হয়। বেশিরভাগ চিকিত্সকই ব্যবস্থাপত্রে সাধারণত এই ট্যাবলেট লিখেন না। তবু বাজারে বিপুল পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা রোগীদের জন্য এই ট্যাবলেট ভয়াবহ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঈশ্বরদীর পরিদর্শক ভূপতি কুমার বর্মণ বলেন, বড়ো বড়ো কোম্পানি এই ট্যাবলেট বৈধতা নিয়ে বাজারজাত করছে। সে কারণে এটি বিক্রয়কারী দোকানদার এবং মাদকাসক্তদের কাছে পাওয়া গেলেও আমরা কিছুই করতে পারছি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহাম্মদ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই জাতীয় ট্যাবলেট বিক্রি বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।