ইমরান খানের জীবন চরম ঝুঁকিতে, বাবাকে হত্যার আশঙ্কা ছেলে সুলাইমান খানের

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২১

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার ছেলে সুলাইমান খান। দীর্ঘ কারাবাস, নির্যাতন ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তার বাবার কিছু হলে এর দায় কার, তা নিয়ে যেন কোনো সংশয় না থাকে বলেও সতর্ক করেছেন সুলাইমান।

ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের ছেলে সুলাইমান অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কারণে তার বাবাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। তার দাবি, ইমরান খান আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মতো পরিণতি হতে পারে তার।

সুলাইমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আগস্টের পর থেকে কেউ তার বাবাকে দেখেননি বা তার কাছ থেকে কোনো কথা শোনেননি। ওই মাসেই ইমরান খান তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেছিলেন। সুলাইমানের ভাষ্য, মুরসির মতো তার বাবাকেও হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইমরান খানের চিকিৎসা ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুলাইমান। তার দাবি, গত আগস্টে আদালত ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ দিতে এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সুলাইমান আরও বলেন, তার বাবা পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তাকে ভয় পায় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। তার বাবার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কার, তা নিয়ে যেন কেউ ভুল না করেন।

৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি মামলা রয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইমরান খানের ওপর নির্যাতন, নির্জন কারাবাস ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। গত আগস্টে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারের কোনো আদেশে ইমরান খানকে আটক রাখা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রচার চালানোর প্রেক্ষাপটে তার পরিবারের সদস্যদের ওপরও চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর সুলাইমান ও তার ভাই কাসিম খানকে বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালাতে পাকিস্তানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে পরিকল্পিত প্রতিবাদের আগে পাঞ্জাব মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্সের আওতায় ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত সোমবার তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা তার মুক্তি, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ এবং পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করেন।

এদিকে গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন। সরকার আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ওই অঞ্চলে সশস্ত্র জঙ্গিদের তৎপরতাকে জরুরি অবস্থা জারির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পিটিআই এ পদক্ষেপকে ‘জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে একধরনের অভ্যুত্থান’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলন দুর্বল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 
ইত্তেফাক/এসএ