মির্জাপুরে মাদকের কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও গরু চুরি বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। চোরের কবল থেকে রেহাই পায়নি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সরকারি কোয়ার্টার, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী। দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা মীর আনোয়ার হোসেন টুটুলের ছয় তলা ভবনের পাঁচ তলা ফ্লাটের ভাড়াটিয়া সুভাষ সরকার ও দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মারুফ হাসানের ফ্লাটেও দিনেরবেলায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ ৭-৮ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে। চুরি হয়েছে পৌর মেয়রের মোটরসাইকেল। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং এলাকায় সচেতন মহলের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ গরু চুরির বিভিন্ন ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতোয়ার রহমান সাদত, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুর রাজ্জাক, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন, হুয়াহু মোবাইল সেন্টারের মালিক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান ছিটু এবং মোবাইল ফেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, ভয়াবহ মাদকের কারণেই এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও গরু চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। মির্জাপুর বাজারের সৈয়দ মনসুর টাওয়ারে ছয়-সাতটি মোবাইলের দোকান, শহিদ মিনার সংলগ্ন হুয়াহু মোবাইলের দোকান, কলেজ রোডে মুক্তা কম্পিউটার সেন্টার, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোডে দুই দোকান, কালিবাড়ি ও কাঁচাবাজার রোডে কয়েকটি দোকানে বড় ধরনের চুরির ঘটনায় প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের সার্ভেয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ইউএনও অফিসের নিরাপত্তা কর্মী মো. সয়ন মিয়া, মো. হাবিব মিয়া ও উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের বাসার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৬-৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এর আগে পৌর মেয়র সাহাদত হোসেন সুমনের মোটরসাইকেল, বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতোয়ার রহমান সাদতের বাসায় চুরি, পৌর কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাকের বাসায় চুরি হয়েছে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদকের বিস্তার থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এরই মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীদের গ্রেফতার করে জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মাদকের কুফল নিয়ে মতবিনিময় সভা শুরু হয়েছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় মির্জাপুর থেকে মাদককে মুক্তসহ আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে চুরির মূল কারণ মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনকারী। মাদক একটি সামাজিক অপরাধ। মাদক থেকে রক্ষার জন্য অভিভাবকদের সচেতন ও তাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।
