নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের আহ্বান মার্কিন ইহুদিদের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নতুন সরকার কে গঠন করবে কিংবা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জটিল সমীকরণ দেখা দিয়েছে।

প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন এবং আরব রাজনৈতিক দলগুলো যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ১২০ আসনের নেসেটে মোট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১টি আসন আবশ্যক। তবে এখনো প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ‘ডাবল এনভেলপ’ ব্যালট (সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের বিশেষ ভোট) গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত ফলাফলে এক বা দুটি আসনের সূক্ষ্ম রদবদল ঘটতে পারে, যা পরবর্তী দর-কষাকষিতে ভূমিকা রাখবে।

এই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির দরুন নির্বাচনে ১৯টি আসন পাওয়া দুই আরব দল—‘জয়েন্ট লিস্ট’ (১২ আসন) ও মনসুর আব্বাসের ‘রাআম’ (৭ আসন) মূল নির্ণায়ক ভূমিকা বা ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংখ্যাগত হিসাবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের বিরোধী শিবিরের সরকার গঠন সহজ হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বেশ জটিল। বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা ভোটের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট বা ক্ষমতা ভাগাভাগি না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কট্টর ইহুদি ভোটারদের চাপের মুখে তারা তা কতটা অমান্য করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া ‘রাআম’ সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও ‘জয়েন্ট লিস্ট’ কোনো জায়নবাদী সরকারের সরাসরি অংশ হতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থনে একটি ‘সংখ্যালঘু সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিলেও পার্লামেন্টে নিয়মিত বিল পাস করানো নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে।

অন্যদিকে উদারপন্থী ও প্রগতিশীল ইহুদি নেতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের 'জে স্ট্রিট' ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা দেশের এক-পঞ্চমাংশ আরব জনগোষ্ঠীকে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত করে একযোগে পরিবর্তনকামী সরকার গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ফলাফলের পর নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি অর্থায়ন, জালিয়াত ও ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তোলে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির নির্দেশে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেইত’ এসব অভিযোগের তদন্ত করছে।

তবে এই পরিস্থিতির মাঝে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আরব ভোটার ও দলগুলোর পক্ষে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা একটি নির্দিষ্ট পুরো সমাজকে ভিত্তিহীনভাবে কলঙ্কিত করা অনুচিত। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ ব্যালট গণনা শেষ হলে নতুন সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন প্রেসিডেন্ট হারজগ, আর তার আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইত্তেফাক/এএম