ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান। তার এ কর্মকাণ্ডকে ইসলামি শরিয়তবিরোধী দাবি করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন ইসলামি ধর্মীয় নেতা মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। একই সঙ্গে সারাকে তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান সারা আলি খান। সেখানে অন্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সারার মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিরোধিতা করেন মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন। তার দাবি, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা-অর্চনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় মৌলানা জানান, কয়েকজন মুসলিম যুবক সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে পূজো দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সারার মন্দিরে গিয়ে পূজো দেওয়া এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মৌলানা বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ অনুচিত। এ জন্য অভিনেত্রীকে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আল্লাহর কাছে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও দাবি করেন ওই ধর্মীয় নেতা।
কেদারনাথ মন্দিরে সারা আলি খানের যাতায়াত এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার সেখানে গিয়েছেন তিনি। মন্দিরটির সঙ্গে নিজের গভীর আবেগের কথাও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
২০১৭ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় বেশ কিছুদিন ওই এলাকায় ছিলেন সারা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে ব্ল্যাক কফি পান, পাহাড়ে ট্রেকিং এবং পাহাড়ি খাবারের প্রতি ভালোবাসার মতো নানা অভ্যাস ও আগ্রহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।
