আবাহনীর নতুন ভবনে আনন্দের ছোঁয়া

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৬

ধানমন্ডিস্থ আবাহনীর নতুন ভবনে আনন্দের ছোঁয়া। উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ ক্লাবের বিপক্ষে জয়ে আবাহনীর ফুটবলারদের মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ হয়েছে। আবাহনী মাঠের পূর্ব পাশে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এ ছাদের নিচে লিগের ম্যাচ জয় ছাড়া খুব একটা সুখকর কিছু ছিল না। লিগ শিরোপা পায়নি আবাহনী। আফসোস ছিল খেলোয়াড়দের মধ্যে। কিন্তু সেই আফসোস কিছুটা হলেও কমেছে। লিগ শিরোপা না পাওয়ার ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিয়েছে এএফসি কাপের পারফরম্যান্স। অথচ ম্যাচ জেতার মতো আত্মবিশ্বাসও ছিল না খেলোয়াড়দের। চারদিক হতে খেলোয়াড়দের কানে এসেছিল পারবে না, পারবে না শব্দগুলো। কীভাবে পারতে হয় তা দেখিয়েছেন আবাহনীর জীবন, নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা, সোহেল রানা, রায়হান, জুয়েল রানা, মামুন মিয়া, অধিনায়ক এবং গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল, সাদ উদ্দিন, ওয়ালী ফয়সালরা। আবাহনী মাঠের পূর্ব দিকে গড়ে উঠা সাদা ধব ধবে একতলা ভবনের ছাদের নিচে প্রত্যেক রুমে রুমে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস।

আগামীকাল ফিরতি ম্যাচ খেলতে উত্তর কোরিয়ার পথে রওনা হওয়ার আগে এমন সজীবতা ফুটলারদের দোলা দিচ্ছে। জীবন, অধিনায়ক সোহেল এবং জুয়েল রানা একই রুমে। কীভাবে আবাহনী ৪-৩ গোলে হারিয়েছে এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ দলকে, চলছিল সেই আলোচনা। স্ট্রাইকার জীবন এএফসি কাপে এখন পর্যন্ত তিন গোল করেছেন। তবে পরশু রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টোয়েন্টি ফাইভ দলের বিপক্ষে গোলটা দারুণ উজ্জীবিত করছে তাকে। জীবন বলছিলেন, ‘আমি যখন বলটা পাই, ধরেই নিয়েছি গোল হবেই। আমি যদি দুই বছর আগের জীবন হতাম তাহলে এটা গোল হতো না।’ যোগ করলেন জীবন, ‘আমার গোলটা আমাকে জাতীয় দলে আরো সাহস দেবে।’ কথা শেষ না করতেই জীবন বললেন, ‘আরো কী বলব জানেন ভাই। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে সবাই ধরে নিয়েছিল আমরা হারব।’ একথার রেশ টেনে জুয়েল বললেন, ‘এই ম্যাচটা নিয়ে আমরা এতোই টেনশনে ছিলাম যে, জীবন ডাব এনেও ভুলে সেটা বাসে ফেলে ড্রেসিং রুমে চলে যায়।’ গা এলিয়ে শুয়ে থাকা গোলকিপার সোহেল উঠে বসলেন। বললেন, ‘আমরা কেন জিতেছি জানেন ? আগের দিন আমাদের বোর্ডরুমে মিটিংয়ে বলা হয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের হাতে অস্ত্র ছিল না। তারপরও আমরা জিতেছিলাম। এসব কথা গা গরম করে দিয়েছিল।’ রায়হান বললেন, ‘সত্যিকথা বলি, ম্যাচের আগে ভাবিনি আমরা জিতব।’

ম্যাচের দিন গোলকিপার সোহেলের বাবা প্রয়াত ফুটবলার ইউসুফ বুলীর মৃত্যুবার্ষির্কী ছিল। বাবা-মা দুজনেই বেঁচে নেই সোহেলের। বাবার মৃত্যুদিনে ফুটবল লড়াইয়ে আরো বেশি সাহস তৈরি করেছিলেন সোহেল। ম্যাচের তৃতীয় গোলটা হজম করায় অনেকই দুষছেন। সোহেল বললেন, ‘আমি নিশ্চিত বল পাব জেনেই ফ্লাই করেছিলাম। কিন্তু ধাক্কাটা লাগে রায়হানের মাথায়।’

গুরুত্বপূর্ণ খেলায় গোল করতে না পারার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন সানডে। দুই গোল করেছেন তিনি। মামুনুল বললেন, ‘সোহেল রানার গোলটা বুঝিয়ে দিয়েছে দেশে মানসম্পন্ন ফুটবলার আছে।’ সোহেল রানার গোলটা বর্তমানে এএফসির সপ্তাহের সেরা গোলের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে।