বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও দিল্লির পরিস্থিতি উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ ভারতের পরিবেশবাদীদের। ২০১৩ সালে দেশটির ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) পলিথিন পণ্য পোড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল। দিল্লি সরকার সেই নির্দেশও কার্যকর করতে পারেনি। পরিবেশ বিষয়ক ওই ট্রাইব্যুনাল চত্বর থেকে পশ্চিম দিল্লির দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার, জানিয়েছে এনডিটিভি।
পলিথিন পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি না হওয়ায় গত সপ্তাহের সোমবার এনজিটি দিল্লি সরকারকে ২৫ কোটি রুপি জরিমানাও করে। অথচ এর কয়েকদিন পর নিলওয়াল এলাকার জনগণকে পলিথিন ও পলিথিনজাত বস্তু পোড়াতে দেখা গেছে। সোমবারের নির্দেশে এনজিটি যতদিন পর্যন্ত দিল্লি সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি না করবে, ততদিন পর্যন্ত তাদেরকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ কোটি রূপি করে জরিমানাও দিতে বলেছে। জরিমানার সঙ্গে নিরাপত্তা আমানত হিসেবেও অতিরিক্ত ২৫ কোটি রুপি দিতে হচ্ছে দিল্লি সরকারকে। এনজিটি বলেছে, জরিমানার টাকা কাদের কাছ থেকে নেবে সে বিষয়ে সরকারের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। তারা চাইলে দূষণকারী কিংবা যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে তাদের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণবাবদ এ অর্থ তুলতে পারবে। শুক্রবারও দিল্লির বাতাসের মান ‘খুবই বাজে’ ছিল বলে জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো। বাতাসের গতি কম এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শহরটির অন্তত ৭টি এলাকার বাতাসের পরিস্থিতি ‘মারাত্মক’। ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড দিল্লির ওইদিনের সামগ্রিক বাতাসের মান ৩৫৫ বলে জানিয়েছে। এর মধ্যেই এনডিটিভির প্রতিবেদক নিলওয়াল এলাকায় গিয়ে পলিথিন পোড়াতে দেখেন। এলাকাটিতে প্রতিদিনই এ কর্মযজ্ঞ চলে বলে জানান এনজিটিতে মামলা করা মহাভির সিং।
