ইনানী হতে পারে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র, ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণে বাপেক্স

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৮

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে সৃষ্ট আগুন টানা চার দিনেও নেভানো সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎসের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, এটি দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেখানে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে বর্তমান অবস্থায় আগুন জোরপূর্বক নেভানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে; এর মধ্যে আগুন প্রাকৃতিকভাবে না নিভলে গ্যাস নির্গমনের পথ সিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাপেক্স তাদের নিজস্ব সক্ষমতায় এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনে আসা পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, রাতের বেলা অগ্নিশিখার কালচে ভাব দেখে সেখানে খনিজ তেলের উপস্থিতি থাকতে পারে বলেও তাদের অনুমান।

নিরাপত্তার স্বার্থে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তারের সই করা আদেশে আগুনের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকায় স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ থেকে সংযোগকারী দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যারিকেড দিয়েছে। ইতিপূর্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে বিকল্প উপায়ে তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইনানীতে মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ খননের সময় এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ গ্যাস প্রবাহ বন্ধ হওয়ার আগে জোড়াতালি দিয়ে আগুন নেভাতে গেলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে। ফলে আগামী ১৫ দিনের সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে ইনানীর এই ঘটনা ও সম্ভাব্য নতুন খনিজ সম্পদের ভাগ্য।

ইত্তেফাক/এএম