সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ২০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু হয়েছে। তার আগে উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলায়াত করেন ক্বারী বেলাল হোসেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের এ লংমার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে সংস্কার করতে হবে। নইলে গদি ছাড়তে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের রায়ের আলোকে আইনি পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার করা, দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম নিয়ন্ত্রণে আনা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের গণহত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার সম্পন্ন করা।

এর আগে, গতকাল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতির কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সকাল ৮টায় লংমার্চের গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করবে। লংমার্চের বহর শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট হয়ে রূপসা সেতু দিয়ে খুলনায় প্রবেশ করবে। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে সমাপনী জনসভায় অংশ নেবে।

পথে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর এবং দুপুর ২টায় ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর রয়েছে।

এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এটি ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কর্মসূচি আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় সবচেয়ে বড়।

লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে দুঃখ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের একটি পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/এনটিএম