খেলার মাঠে পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সাফল্য পেয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের একঝাঁক তারকা। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। উত্তীর্ণ হয়েছেন জাতীয় নারী হকি দলের দুই যমজ সদস্য হিমাদ্রি বড়ুয়া ও নিলাদ্রি বড়ুয়া, টেবিল টেনিসের খই খই সাই মারমা, জাতীয় দলের ফুটবলার মেহেদী হাসান শ্রাবণ এবং ক্রিকেটার মারুফা আক্তারসহ অনেক ক্রীড়াবিদ।
হকির যমজ বোনদের মধ্যে হিমাদ্রির আনন্দ একটু বেশিই। জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। আর নিলাদ্রি পেয়েছেন ৪.৮৩। অল্পের জন্য এ প্লাস না পেলেও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল হওয়ায় দুজনই সন্তুষ্ট।
জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকার কারণে এইচএসসির প্রস্তুতি ও পরীক্ষায় খুব বেশি সময় দিতে পারেননি হকির যমজ বোন। নিলাদ্রি বলেন, ‘ভালোভাবে প্র্যাকটিস করার জন্য সেভাবে পরীক্ষা দিতে পারিনি। বেশি কিছু আশা ছিল না, তারপরও ভালো লাগছে ফল দেখে।’
খেলাধুলাকে বেশি গুরুত্ব দিলেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তার। হিমাদ্রি বলেন, ‘ভালো লাগছে, ঢাকাতে ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাই।’
হিমাদ্রি ও নিলাদ্রি দুজনই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থী। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তাদের প্রতিষ্ঠানের সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনই এবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বিকেএসপি থেকে সফল হয়েছেন টেবিল টেনিসের পরিচিত মুখ খই খই সাই মারমাও। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৬৭ জিপিএ নিয়ে এ গ্রেড পেয়েছেন তিনি। খেলাধুলা ও পড়াশোনা একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার কঠিন জানিয়ে খই খই বলেন, ‘আসলেই একসঙ্গে দুইটা চালানো কঠিন ছিল। পরীক্ষার জন্য আমি সিলেকশন দিতে পারিনি, যে কারণে বড় দুটি গেমস মিস করেছি। তারপরও ফলটা অপ্রত্যাশিত ছিল, খুব ভালো লাগছে।’
এছাড়া বসুন্ধরা কিংস ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাস করেছেন। ঐচ্ছিক বিষয়সহ তার জিপিএ ৪.৭১, আর ঐচ্ছিক বিষয় বাদ দিলে জিপিএ ৪.৪৬। জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন মানবিক বিভাগ থেকে ৪.২৫ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
ক্রিকেটেও এসেছে সাফল্যের খবর। জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের পেসার মারুফা আক্তার এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলেন তিনি। সেই বিষয়েই এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সফল হয়েছেন।
