এবার আট বছর আগের মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতায় ধ্রুব রাঠি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪২

আট বছর আগে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে নতুন করে সমন জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিল্লির সাকেত আদালত এ সমন জারি করেন। ধ্রুব রাঠি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানার গুরুগ্রামে তার বাসার দরজায় সমন সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মামলাটির শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পান্ডে নামের এক ব্যক্তির করা মামলাটি ফৌজদারি মানহানির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করেন তিনি। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ধ্রুব রাঠি তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে বিকাশকে বিজেপির আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিকাশের অভিযোগ, তাকে নিয়ে ওই ভিডিওতে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল, ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে মহাবীর প্রসাদ নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ রুপি ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন বিকাশ। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ধ্রুবর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন তিনি।

ধ্রুব রাঠির প্রকাশ করা ভিডিওটি একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এ ঘটনায় তাঁকেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চান কেজরিওয়াল।

মামলাটি দায়েরের পর ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। তবে তিনি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় অবস্থান করায় সেই সমন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এতে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে এগোতে পারেনি।

সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে আলোচনায় আসেন ধ্রুব রাঠি। বেঙ্গালুরুতে দলটির আন্দোলনে অংশ নিতে জার্মানি থেকে ভারতে আসেন তিনি। পরে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে সেখানে যাওয়ার আগেই তাকে আটক করে পুলিশ।

ধ্রুব রাঠি ভারতে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরোনো মামলাটি আবার সক্রিয় হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জরুরি আবেদন করে জানান, ধ্রুব এখন ভারতে অবস্থান করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ অক্টোবর বিশেষ সমন জারির অনুমতি দেন আদালত।

ওই সমন পৌঁছে দিতে আদালতের একজন কর্মী গুরুগ্রামে ধ্রুবর বাসায় যান। তবে ১৭ অক্টোবর সেখানে গিয়ে বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখেন তিনি। পরে শনিবার তার বিরুদ্ধে নতুন করে জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়। আগামী ৩ নভেম্বর পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন আদালত।

এদিকে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। এ দাবিতে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিদেশে অবস্থান করেও বিরোধীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে গণতন্ত্র রক্ষায় রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ইত্তেফাক/এবিএস