দেশে পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর সরকার সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে এই বেতন নির্ধারণ করেছিল। তবে বর্তমান মজুরি কাঠামো পরিবর্তন করে সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে রোববার (১ নভেম্বর) পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
২০২৩ সালের মজুরি কাঠামো অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মোট মাসিক মজুরি ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা, চতুর্থ গ্রেডে ১৩ হাজার ২৫ টাকা এবং পঞ্চম গ্রেডে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, পোশাকশিল্পের কর্মচারীদের জন্য চারটি গ্রেডে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের সর্বোচ্চ গ্রেডে মোট মাসিক মজুরি ১৮ হাজার ৮০০ টাকা। আর শিক্ষানবিশ কর্মচারীদের মজুরি ৯ হাজার ৯৫০ টাকা।
শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশোধিত ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, নতুন মজুরি বোর্ড সংশ্লিষ্ট শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করবে এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করবে।
এর আগে ২০১৮ সালে পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় সাতটি গ্রেডে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা।
১৯৯৪ সালে প্রথম মজুরি বোর্ড পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে ৯৩০ টাকা। এরপর ২০০৬ ও ২০১০ সালে মজুরি বাড়ানো হয়। ২০১৩ সালে নিম্নতম মজুরি ৭৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
