মণিপুরে নতুন করে ব্যাপক সহিংসতা, দুই সংঘাতে নি'হত ৫

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৮

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুই সংঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১ নভেম্বর) রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন।

এ ছাড়া, সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।

কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের একটি শীর্ষ সংগঠন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যেই নতুন করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

মণিপুরে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক সংঘাত রাজ্যটির সামগ্রিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও কুকিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন।

সূত্র: রয়টার্স

ইত্তেফাক/এসএ