এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:০৫

এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জনবল দ্রুত কাজে লাগাতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলিভিয়া। শনিবার (১ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে বন্যা ও খরায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, এল নিনোর কারণে খরা ও বন্যার ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ প্রভাব’ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন। 

সরকারি এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বলিভিয়ার নয়টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ছয়টিতে খরার প্রভাবে ইতোমধ্যে ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া খরার কারণে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। বলিভিয়ায় বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি বছরের অক্টোবরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে পেরুতে গত মাসে দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এল নিনো একটি বৈশ্বিক জলবায়ুগত প্রাকৃতিক ঘটনা, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যা ও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এল নিনোর তীব্রতা এবং প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। তবে চলমান চক্রটি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

 
ইত্তেফাক/এএম