বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিদেশে বিএনপির কোনো প্রভু নেই যে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কোর্ট হাউজ স্ট্রিট এলাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘একদিকে পরাজিত শক্তি, অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ পরাজিতদের সঙ্গে একত্রিত হয়েছে। তবে আমরা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলব। আমরা পালাতে পারব না। আমাদের বিদেশে কোনো প্রভু নেই, যারা আমাদের আশ্রয় দেবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অন্ধকারাচ্ছন্ন শাসনে আমরা আইন প্রাঙ্গণে কিছুটা আশ্রয় পেয়েছি। ১৭ বছরে আদালতপাড়ার আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদই ছিল আমাদের সহায়। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকরা শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ ছিলেন। পিপি কাজল ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সামনে বেয়াদবের মতো বসে থাকতেন।’
সমমনা দলগুলোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আজ যারা বিরোধী দলের রাজনীতি করছেন, তাদের ভূমিকা বিস্ময়কর মনে হয়। তারা নানা উসকানি দিয়ে কথা বলছেন। সংস্কারের কথা বলে তারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন, আমরা তার হদিস পাচ্ছি না। জামায়াতের আমির বলছেন আরেকটি বিপ্লব নাকি দরজায় টোকা মারছে। আপনারা বিপ্লবের কথা বলছেন, অথচ আপনাদের রাজনীতি হচ্ছে আত্মসমর্পণ আর স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।’
দাবি আদায়ের কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সাত দফা না মেনে নিলে এক দফার ভয় কাকে দেখাচ্ছেন? রাজপথ কি কারও মৌরশি পাট্টা (পৈতৃক সম্পত্তি) করে দেয়া হয়েছে? ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করেছে বিএনপি, এখন কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় মানতে বিএনপির কোনো অস্বীকৃতি নেই। তবে নোট অব ডিসেন্ট ইস্যুগুলোর সমাধান সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে, লংমার্চ দিয়ে নয়।’
দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নানা চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। তারেক রহমান দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। অথচ এসব অগ্রাহ্য করে গার্মেন্টস আন্দোলনের নামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ দেশকে অস্থিতিশীল করছে।’
