ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭ মাসের শিশুপুত্র আদরকে হারানোর শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি সৌদি প্রবাসী বাবা আরিয়ান। সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি। অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় মারা গেছেন শিশুটির মা সোনিয়া আক্তারের নানিও। একই দিনে তিন স্বজনের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৩১ নভেম্বর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাত মাস বয়সি শিশু আদর।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আরিয়ান খান ও মেহেন্দীগঞ্জের দক্ষিণ উলানিয়া গ্রামের সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। এই দম্পতির শাহাদাত সানি (১০) ও আদর (সাত মাস) নামের দুই ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। আরিয়ান খান জীবিকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে থাকতেন। অন্যদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে সোনিয়া আক্তার বেশির ভাগ সময় বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন।
এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় শিশু আদর। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সকালে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে ছেলের মৃত্যুর খবর সৌদি আরবে থাকা বাবা আরিয়ান খানের কাছে পৌঁছালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একই দিন শনিবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান সোনিয়া আক্তারের নানি। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে স্বজনদের মধ্যে। পরপর এমন মৃত্যুর ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
মৃত আদরের নানা জসিম হাজারী বলেন, ‘আমরা কী করে এই শোক বইব। নাতি ও জামাতা মারা গেল। একই দিনে বৃদ্ধা আমার শাশুড়িও পরপারে চলে গেলেন। এক দিনে পরিবারের তিনজনকে হারানোর শোক বিচলিত করে তুলেছে।’
সোনিয়ার চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মো. সেলিম জানান, শনিবার রাতে উলানিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে শিশু আদর ও সোনিয়ার নানিকে দাফন করা হয়েছে। আদরের বাবা আরিয়ানের লাশ সৌদি আরবে। আরিয়ানের মা–বাবা সৌদি আরবে বসবাস করেন। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
