চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আড়তদার ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, ঢাকার ট্যানারী গুলো চামড়া কেনার জন্য যোগাযোগ করছে। কিন্তু বকেয়া টাকা পরিশোধ নিয়ে কোন কথা বলছে না। ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারীর কাছে তাদের প্রায় ৩০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। চট্টগ্রামে মদিনা ও রিফ লেদার নামে দু’টি ট্যানারী থাকলেও তাদের মধ্যে একটি কাঁচা চামড়া কিনবে। অন্যটি ইটিপি না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, চট্টগ্রামে আড়তদারদের কাছে প্রায় আড়াই লাখের মতো লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া মজুদ রয়েছে। তারা চামড়ার মান ও পরিধি অনুসারে পৃথক করে রেখেছেন। নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় অবস্থিত কাঁচা চামড়ার আড়ত গুলো চামড়ায় ভর্তি। আড়তদাররা ক্রেতাদের অপেক্ষায় রয়েছে। লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া আড়তে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। আড়তদার মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমি এবার কয়েক হাজার চামড়া কিনেছি। ঢাকার যে সব ট্যানারীর সাথে আমরা নিয়মিত চামড়া বিক্রি করি তাদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। তবে বকেয়া নিয়ে কোন কথা বলছে না তারা। চট্টগ্রামের রিফ লেদার ট্যানারীর সাথেও কথা চলছে।’
আর আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার কারণে রিফ লেদার ট্যানারীও চামড়া কেনা শুরু করেনি। এতে কাঁচা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে চট্টগ্রামের আড়তদাররা। তারা ঢাকার ট্যানারীর দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ চট্টগ্রামের চামড়া বেচাকেনা সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভরশীল।
এক সময় চট্টগ্রামে ১৭/১৮টি ট্যানারী ছিল। বৃহত্তর চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া এসব ট্যানারীগুলো কিনে নিত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দু’টি ছাড়া ক্রমান্বয়ে বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম চামড়ার বিশাল বাজার রয়েছে। কোরবানী ছাড়াও নিয়মিত প্রচুর কাঁচা চামড়া লেনদেন হয়ে থাকে। ট্যানারীতে ইটিপি স্থাপন অত্যন্ত ব্যয় বহুল। চট্টগ্রামের রিফ লেদার অত্যাধুনিক ইটিপি স্থাপন করলেও মদিনা ট্যানারী বসাতে পারেনি।
আড়তদাররা জানান, মদিনা ট্যানারী বন্ধ থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কারণ এই ট্যানারী নগদে চামড়া কিনতো। তাদের কাছে আড়তদারদের কোন বকেয়া নেই। এবার মদিনা ট্যানারী কোন চামড়া সংগ্রহ করবে না বলে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু মোহাম্মদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইটিপি থাকলেও রিফ লেদার ট্যানারীর পরিচালক(অপারেশন) মখলেছুর রহমান বলেন, বিদেশী ক্রেতা আসছে না। তাই চিন্তা ভাবনা করে চামড়া কিনতে হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে চামড়া কেনা শুরু করবো। তবে আমাদের টার্গেট খুব বেশি নয়।’
চট্টগ্রামে সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক আড়তদার রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই এবার চামড়া কেনেনি। বাকীতে চামড়া বিক্রি করে তারা মুলধন সংকটে পড়েছে। এ ব্যাপারে আড়তদার নুর আহমেদ বলেন, এবার আমি চামড়া কিনিনি। কারণ, ঢাকার ট্যানারীর কাছে ৩ বছর আগের টাকাও বকেয়া রয়েছে। তার চেয়ে অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে বরং লাভ।’
