চট্টগ্রাম বন্দরের ডেলিভারি টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণ চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৮

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল ডেলিভারি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। গত মে মাসে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার ডেলিভারি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিপি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো মন্ত্রণালয় থেকে এর অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বরং সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিষয়ে তথ্য চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যবসায়ীরা এবং বন্দর ব্যবহারকারীরা বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং দিন দিন বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা আনকটাড-এর গাইড লাইন অনুযায়ী ৬০ শতাংশ ধারণ ক্ষমতা অতিক্রম করলে নতুন জেটি বা বার্থ নির্মাণকাজ হাতে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ২০০৭ সালে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নির্মাণের পর এই পর্যন্ত কোনো নতুন টার্মিনাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। অবশ্য ইতিমধ্যে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজ চলছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার ট্রাক, ট্রেলর, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্য পরিবহনের যানবাহনের কারণে ইয়ার্ডের বিরাট অংশ তাদের দখলে থাকে। ফলে কন্টেইনার জটসহ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। দেশের আমদানি-রপ্তানির উত্তরোত্তর বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সঙ্গে তাল মেলাতে বে-টার্মিনাল প্রকল্প গ্রহণ করে। চট্টগ্রাম বন্দরের অনতিদূরে হালিশহর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উপকূলে প্রকল্পটির জন্য ইতিমধ্যে নয় শতাধিক একর জমির অনেকাংশ অধিগ্রহণ করে বন্দর থেকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণকৃত জমি ইতিমধ্যে ভরাট কাজও শুরু করে দিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো বে-টার্মিনাল নির্মাণের মূল প্রকল্প শুরুর আগে প্রথমেই ওই এলাকায় ডেলিভারি টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে বন্দরের সব কন্টেইনার জাহাজ থেকে বে-টার্মিনালের ডেলিভারি ইয়ার্ডে চলে যাবে। ওই ডেলিভারি ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনারগুলো আমদানিকারকদের গন্তব্যে চলে যাবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যানের আসতে হবে না। তাতে করে বন্দরের ভেতর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং দ্রুত এবং অধিক পরিমাণে করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে শহরের মধ্যদিয়ে চলাচলকারী ওই সব পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য সৃষ্ট যানজট থেকে জনগণ রেহাই পাবে।