৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর নতুন পে-স্কেল

৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

আজকের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অর্থ বিভাগের কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। চিঠিতে ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের জন্য এ অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা শিগিগরই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। এদিকে নবম পে-স্কেল পাওয়ার অগ্রগতি দেখে পূর্বনির্ধারিত আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ছয় মাসের বকেয়াসহ ১২ মাসের হিসাব বিবরণী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। মাউশির হিসাব বিবরণী থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সাত মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল-কলেজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ থেকে জুন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ঘাটতির জন্য আলাদা করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখা থেকে অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ জন্য বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চিঠিতে আরো বলা হয়, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনূকূলে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং বেসরকারি কলেজসমূহে অতিরিক্ত ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকাসহ সর্বমোট ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ হাজার ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাউশির পাঠানো হিসাব বিবরণী থেকে জানা গেছে, ছয় মাসের বকেয়াসহ আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের বেতনে ২ হাজার ২৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৮১৯ টাকা এবং ভাতায় ২৭৫ কোটি ৬০ লাখ ১২ হাজার ৩৬ টাকাসহ মোট ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা দরকার হবে। অন্যদিকে কলেজের ক্ষেত্রে বেতনে ৬৬৫ কোটি ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫১১ টাকা এবং ভাতায় ৭১ কোটি ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯০ টাকাসহ মোট ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাত্ বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং বেসরকারি কলেজসমূহে অতিরিক্ত ৭৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকাসহ সর্বমোট ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯১ হাজার ২৫৬ টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 শিক্ষক-কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন আজ : এদিকে তিন দফা দাবি আদায়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধরনে পরিবর্তন এনেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও চলমান শ্রমিক আন্দোলন বিবেচনায় আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন না করে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। তবে পূর্বঘোষিত তারিখ ও কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকছে। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দাবি আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।

ইত্তেফাক/এনএন