ছন্দ ফেরাতে ব্যাটসম্যানরাই ভরসা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৩২

তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসান বিহীন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে বড় ভরসার নাম মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস। যদিও প্রথম চার জনের ব্যাটে রানের ছন্দ আগের মতো আওয়াজ তুলছে না। ইমরুলও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। যার প্রভাব পড়ছে দলের পারফরম্যান্সে।

গত আট ইনিংসে দুইশ রান পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আজ শুরু হতে চলা বাঁচা-মরার টেস্টে তাই ব্যাটিংই স্বাগতিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও গতকাল স্বীকার করেছেন, ব্যাটসম্যানদের জেগে উঠার বিকল্প নেই। ব্যাটসম্যানদের কাছে স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং আশা করছেন তিনি। আর ব্যাটিংটা জমে উঠলেই ম্যাচের লাগাম পেতে পারে বাংলাদেশ।

সিলেটে ১৫১ রানের হারে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজ হারের চোখ রাঙানি এখন স্বাগতিকদের সামনে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাংলাদেশকে জিততেই হবে এই টেস্টে। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে ব্যাটসম্যানরাই হবেন বড় অস্ত্র।

রান খরা ব্যাটিং লাইনে গ্রাস করে বসেছে। সর্বশেষ চার টেস্টের আট ইনিংসে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৭.২৫ গড়ে ৫৮ রান, ৮.৬২ গড়ে ৬৯ রান টেস্ট বিশেষজ্ঞ মুমিনুলের, দলের সেরা ব্যাটসম্যান খ্যাত মুশফিক ১৬.৬২ গড়ে ১৩৩ রান, লিটন ১৭.৬২ গড়ে ১৪১ রান করেছেন। দুই টেস্ট খেলা ইমরুল ২১ গড়ে ৮৪ রান করেছেন। বলা বাহুল্য, তারা কেউই শেষ আট ইনিংসে কোনো হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এখানেই গোটা দলের ব্যাটিংয়ের ছন্নছাড়া রূপটা স্পষ্ট।

মিরপুর টেস্টে তাই ব্যাটিংয়ে ছন্দে ফেরানোই মূল চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের জন্য। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের আসল চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। এই জায়গায় আমরা অন্য ফরম্যাটে যত ভালো করতে পারছি, টেস্ট ক্রিকেটে ততো ভালো করতে পারছি না। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা। আবার আমরা যদি খুব বেশি চিন্তা করি তাহলে চাপটা আমাদের উপরেই পড়বে। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইব। আমরা যদি ঐ জিনিসটা করতে পারি, তাহলে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।’

ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই সিলেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাছাড়া প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে কিছুটা হালকাভাবে নেয়ার ছবিও দেখা গেছে দলের মাঝে। যদিও মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, সব প্রতিপক্ষকে সমানভাবে দেখে বাংলাদেশ।

গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকেই ওভাবেই দেখি। ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে দেখি, আমি জিম্বাবুয়েকেও একই চোখে দেখি। কারণ মাঠে গিয়ে ভালো খেলাটাই মূল লক্ষ্য। সেটা যদি আপনি করতে না পারেন তাহলে আপনারও খারাপ লাগবে, কারণ আপনি দেশের হয়ে ভালো করতে পারছেন না। এটা সবাইকেই অনেক পীড়া দেয়। আমরা এখন সবার সাথেই কথা বলেছি, টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সাথেই আলাপ হয়েছে। আমাদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থা। আমাদের শক্তভাবে ফিরে আসতে হবে। এখানে অন্য কোন সুযোগ নেই।’

একাদশে কম-বেশি পরিবর্তন আসতে পারে আজ। সিলেটে খেলা কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন মিরপুর টেস্টে। সবমিলিয়ে ম্যাচ জিততে উন্মুখ বাংলাদেশ। ২২ গজে নিজেদের সেরাটা দিতে চান ক্রিকেটাররা। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের দেশের প্লেয়াররা অনেক হূদয় দিয়ে খেলে। যেই তার দেশের জন্য খেলে সবসময় ১০০ ভাগ দিয়েই খেলে। এই টেস্টে আমরা ১২০ ভাগ দিয়ে খেলব।’