অ্যাডিলেডে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

অ্যাডিলেড টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ানরা। কৃতিত্ব ভারতীয় বোলারদের। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসমানরা একদমই নিজেদের মেলে ধরতে না পারায় সাত উইকেটে ১৯১ রান দিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত করে ২৫০ রান। তিন উইকেট হাতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এখনো ৫৯ রান পিছিয়ে আছে।

চেতেশ্বর পূজারার ১২৩ রানের সুবাদে অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিন ৯ উইকেটে ২৫০ রান তুলে ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম বলেই বাকি একটি উইকেট হারায় তারা। অস্ট্রেলিয়ার ডানহাতি পেসার জশ হ্যাজেলউডের বলে আউট হন ৬ রান করা মোহাম্মদ শামি।

এরপর ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলেই সাজঘরে ফিরেন ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ। রানের খাতা খোলার আগেই ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মার বলে বোল্ড হন তিনি।

এরপর শুরুর ধাক্কাটা সামাল দেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মার্কাস হ্যারিস ও উসমান খাজা। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। ২৬ রান করা হ্যারিসকে নিজের প্রথম শিকার বানান ভারতের স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন।

হ্যারিসের পর দ্রুত আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেন অশ্বিন। চার নম্বরে নামা শন মার্শকে ২ ও খাজাকে ২৮ রানে বিদায় দেন তিনি।

৮৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও ট্রাভিস হেড পঞ্চম উইকেটে লড়াই শুরু করেন। ভালোই এগোচ্ছিলেন তারা। দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছেও দেন হ্যান্ডসকম্ব ও হেড। কিন্তু তাদের পথ বাধা হয়ে দাঁড়ান ভারতের পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। হ্যান্ডসকম্বকে ৩৪ রানে থামিয়ে দেন বুমরাহ।

কিছুক্ষণ পর আক্রমণে এসে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন ইশান্ত। ৫ রান করে ইশান্তের দ্বিতীয় শিকার হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেইন। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ১২৭ রানে পরিণত হলে বড় লিডের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ভারত।

কিন্তু ভারতের স্বপ্নের পথে বাধা সৃষ্টি করেন হেড ও প্যাট কামিন্স। সপ্তম উইকেটে জুটি বেঁধে দুর্দান্ত এক লড়াই করেন তারা। এতে সাবলীলভাবে ঘুরতে থাকে অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা। দেড়শ পেরিয়ে দু’শর পথেই হাটচ্ছিলো অসিদের স্কোর। কারণ হেড-কামিন্স জুটিতে ৫০ রান যোগ করে ফেলেন। কিন্তু এরপরই বিপত্তি ঘটে।

নতুন বল হাতে পেয়েই ইন-সুইংএর ভেল্কি দেখান বুমরাহ। ৮১তম ওভারের প্রথম দুই বলে কামিন্সকে পরাস্তই করেন বুমরাহ। তৃতীয় বলেও ইন-সুইং করেন বুমরাহ। সেই ডেলিভারিটি ব্যাট উঁচিয়ে ছেড়ে দেন কামিন্স। বল গিয়ে আঘাত হানেন কামিন্সের ডান-পায়ে। সাথে সাথে ভারতীয় বোলার ও ফিল্ডারদের আউটের আবেদনে সাড়া দেন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা আম্পায়ার ইংল্যান্ডের নাইজেল লং। লং-এর সিদ্ধান্ত ভালো লাগেনি কামিন্সের। তাই ডিআরএস নেন তিনি। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ১০ রানে থেমে যান কামিন্স। ফলে ১৭৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর ক্রিজে হেডের সঙ্গী হন মিচেল স্টার্ক। দিনের বাকি সময়ে আর কোন উইকেট হারাতে দেননি তারা। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে ৬১ রানে অপরাজিত আছেন হেড। ৮ রানে অপরাজিত স্টার্ক। ভারতের হয়ে রবীচন্দ্রন অশ্বিন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া দু’টি করে উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা ও জাসপ্রিত বুমরাহ।