বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুর প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্যই ছিল এদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। এ কারণে আমরা দেখতে পাই সেই ছোট্টবেলা থেকেই এবং পরবর্তীতে তার সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যমণি ছিলো এদেশের সাধারণ মানুষ। এই মানবিক বঙ্গবন্ধু ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছেন। আর পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে ‘কনসেপ্ট বাংলাদেশ।’
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ডাকসু আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
ড. আতিউর বলেন, খুব অল্প বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ, দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য লঙ্গরখানা পরিচালনা, এবং দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকা ত্রাণ তৎপরতা চালানোর মতো বিভিন্ন মানবিক কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা। তাই ভাষা আন্দোলন ছাড়াও সাধারণ মানুষের জীবন মান ও খাদ্য সঙ্কটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকেছেন। এভাবেই বঙ্গবন্ধু প্রকৃত অর্থেই একজন জনগণের নেতায় পরিণত হয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের দুই অংশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্রটি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। সেই বোঝা-পড়ার জায়গা থেকেই প্রাথমিকভাবে ‘দুই অর্থনীতি’র প্রস্তাব সামনে নিয়ে আসেন এবং পরবর্তিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব করেন। স্বাধীনতার পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের যুদ্ধবিধস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে বঙ্গবন্ধু বিশেষ মনোযোগ দেন বলে মত দেন ড. আতিউর। অপশক্তি তাকে দেশবাসীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেও, অনেক সংগ্রামের পর দেশ আবার সঠিক পথে ফিরেছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।
ড. আতিউর বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখা গেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জয়যাত্রা নিশ্চয় অব্যাহত রাখা যাবে। আর তাহলেই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি

