নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, আহত নারী শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫০

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের রান্নাঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে সানজিদা সুরভী নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত সানজিদা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউজ টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি বলেন, রান্নাঘরের একটি চুলার চাবিতে সমস্যা থাকায় সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছিলো। এ অবস্থায় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও দুই হাউজ টিউটর ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে শিক্ষার্থীর কান্নাকাটি দেখে তার হাত ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, হাত ভাঙেনি; হাড় কিছুটা সরে গিয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তিনি হলে ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে আগুনের এ ঘটনা হলের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা জানানো হলেও সেগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, হলে নানা সমস্যার কথা জানানোর পরও হল প্রশাসন চোখে কাঠের চশমা পরে বসে থাকে। হলে ডাইনিং নেই, গ্যাসের লাইন ও পানির লাইনে সমস্যা রয়েছে। পানির লাইন থেকে মাঝেমধ্যে পাখির পালক পাওয়া যায়, সেই পানিই খেতে হয়। ওয়াশরুম ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সুইচেও সমস্যা রয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একটা সমস্যা নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয় না। মনে হয়, হল প্রশাসন আমাদের মানুষই মনে করে না।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দোলনচাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 
ইত্তেফাক/এমএস