টয়লেটে প্রসবের পরপরই জানালা দিয়ে নবজাতককে ফেলে দিলেন কিশোরী মা, মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:০৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের টয়লেটে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় নবজাতককে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৬ বছর বয়সী এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিরুদ্ধে। মাটিতে আছড়ে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সদ্যোজাত কন্যাশিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকার একটি নার্সিংহোমে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

উত্তরপাড়া থানার এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে তীব্র পেটে ব্যথার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরীকে উত্তরপাড়া পুরসভা পরিচালিত নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার সকালে পেটের ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করলে সে নিজে হেঁটে টয়লেটে যায়। সেখানে কারও কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই সে এক কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রসবের পরপরই নবজাতকটিকে টয়লেটের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় ওই কিশোরী।

ঘটনার কিছু সময় পর নার্সিংহোমের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন এক পথচারী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে একজন নার্স দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভেতরে নিয়ে এলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল—এমন তথ্য তাদের জানা ছিল না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে তার পরিবার। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, পরিবারটি কেবল সাধারণ পেটে ব্যথার চিকিৎসা করানোর উদ্দেশ্যেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল বলে দাবি করছে। তবে তাদের এই দাবির সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।

নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ওই কিশোরীকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং শনিবার সকালে তার রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে পেটের ব্যথা তীব্র হলে সে নিজেই হেঁটে টয়লেটে যায়। সেখানে কারও কোনো সাহায্য ছাড়াই সে সন্তান প্রসব করে এবং প্রসবের পরই নবজাতকটিকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়।’ সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, রোগী ভর্তির সময় নার্সিংহোমের কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে মেয়েটি গর্ভবতী কি না সে বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েছিলেন, তবে স্বজনেরা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।

মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে পরিবারের অজ্ঞতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে কিশোরীর মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মেয়ে যে গর্ভবতী ছিল, সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। গত সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কথা বলায় আমরা তাকে নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করি। আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন পাওয়ার পরই আমরা পুরো ঘটনাটি জানতে পারি।’

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে সব দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানা পুলিশ। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে নার্সিংহোমের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কিশোরীর বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মৃত নবজাতকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে নার্সিংহোমটিতে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয় বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শঙ্খ শুভ্র ব্যানার্জি নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনা ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিতই ঘটে থাকে এবং এর আগেও নার্সিংহোম চত্বর থেকে একটি ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ইত্তেফাক/এনএন