জঙ্গল থেকে নকশাল নির্মূল হলেও চেতনায় রয়ে গেছে: নরেন্দ্র মোদি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:২৪

ভারতের ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশালবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কয়েক দশকের মাওবাদীবিরোধী লড়াইয়ে সাফল্যের পর এবারের দীপাবলিকে দেশের প্রথম ‘নকশালমুক্ত দীপাবলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে সশস্ত্র নকশালদের জঙ্গল থেকে সরানো সম্ভব হলেও তাদের আদর্শিক প্রভাব এখনো রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে জায়গা করে নিয়েছে। তারা এখনো মানুষকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মোদি জানান, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪৭ বছরের ইতিহাসে গত এক বছরে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য শহিদ হননি। তাঁর মতে, মাওবাদী সন্ত্রাস ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে এটি বড় অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের দীপাবলি আমাদের জন্য বিশেষ। কয়েক দশকের লড়াইয়ের পর মাওবাদী সন্ত্রাস ও নকশালবাদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর এটি দেশের প্রথম দীপাবলি। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত। কোটি কোটি মানুষ এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

তবে সশস্ত্র নকশালদের পরাজয়ের মধ্যেই লড়াই শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিমাগি নকশালরা এখনো বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা মানুষকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা এই মতাদর্শের অনুসারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

গত বছর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রথমবারের মতো ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল শব্দটি ব্যবহার করেন মোদি। এরপর থেকেই শব্দটির ব্যবহার নিয়ে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অধিকারকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ তৈরি হয়।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, কংগ্রেস জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং এর সমন্বয়কেরা বিদেশ থেকে অবৈধ অর্থ পেয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও আশুতোষ রাঙ্কার বিদেশি অর্থ পাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারকে প্রমাণ উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে জোরালো হয়।

একসময় ছত্তিশগড়ের বস্তার ছিল ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। তবে সরকারের ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান, ধরপাকড় এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

নকশালবিরোধী লড়াইয়ের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে মোদি বলেন, ২০১০ সালে বস্তারের কাছাকাছি দন্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় সিআরপিএফের ৬৬ সদস্য এবং ৪১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর মাওবাদীদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মোদি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তবে সশস্ত্র নকশাল আন্দোলনের অবসানকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে না দেখে দেশের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/এবিএস