বাগেরহাটে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিকাশকর্মীর ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৫

বাগেরহাটের কচুয়ায় দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিকাশের এক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সাইনবোর্ড বাজারের গোলচত্বর এলাকায় প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। 

ছিনতাইয়ের শিকার বাচ্চু শেখ (৩৫) বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘জাবেদ এন্টারপ্রাইজে’ ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কর্মরত। তার দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন দোকানে নগদ টাকা ও ই-মানি সরবরাহ করা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরে সাইনবোর্ড বাজারে লেনদেন শেষে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বাচ্চু শেখ। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত এসে তার পথরোধ করে। তারা বাচ্চুর টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি সেটি ধরে রেখে চিৎকার শুরু করেন। তখন দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি বের করে তাকে ভয় দেখায়। একপর্যায়ে তাকে কোপানোর চেষ্টা করে এবং আশপাশের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাচ্চু রাস্তায় পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তারা বাঁধাল-পিরোজপুর সড়কের দিকে চলে যায়।

বিকাশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের বিকাশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে দুর্বৃত্তরা আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এর আগেও বাগেরহাট সদর উপজেলার ভদ্রপাড়া এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, ‘বিকাশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।’ 

উল্লেখ্য, গত দুই মাসে চিতলমারীসহ বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় এ ধরনের ১০টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৮ অক্টোবর বাগেরহাট সদর উপজেলার পুরাতন মাজার মোড় এলাকায় বাংলালিংকের এক বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে এবং ৩ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার ভদ্রপাড়া এলাকায় এক বিকাশকর্মীর কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। 

ইত্তেফাক/আরএইচ