সুন্দরবনে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ, জনপ্রতি ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে নবগঠিত দস্যুদল আমির ও আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে। ফিরে আসা জেলেদের দাবি, অপহরণকারীরা প্রত্যেক জেলের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে। সে হিসাবে মোট ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।

শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অপহৃত জেলেদের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও দাতিনাখালী গ্রামে। ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, আমির ও আলম গ্রুপের সদস্যরাই এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত।

অপহৃত জেলেরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল হোসেন, ইমরান হোসেন ও খোরশেদ হোসেন; ছোটভেটখালী গ্রামের মো. নুরুজ্জামান; কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী; সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী; এবং কয়রা উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের মোমিন মোড়ল, দিদারুল আলম ও ইমরান হোসেন।

অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা জেলেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। ১০টি নৌকায় মোট ৩০ জন জেলে ছিলেন। তাদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম বলেন, ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে কয়েকজন জেলে অপহৃত হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে দস্যুদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম বলেন, জিম্মি হলে সাধারণত জেলেদের পরিবার গোপনে জলদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের তেমন কিছু করার থাকে না। তবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরের মালিককে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করবে পুলিশ।

ইত্তেফাক/এমএস