ইন্টারনেটের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে নিজের ওয়েব ব্রাউজার নিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পড়তে হয়। ওয়েব ব্রাউজারের হোমপেজ বদলে যায় একা একাই, আবার গুগলে সার্চ দিলে দেখা যায় নাম না জানা অন্য কোনো সাইটে চলে যাচ্ছে সার্চ রেজাল্ট। কখনও কখনও ওয়েব ব্রাউজারের এসব অদ্ভুত আচরণের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায় না। আবার নানা ধরনের টুলবার এসে ব্রাউজারকে বেশ ঘিঞ্জিও করে তোলে। এমন ঝামেলায় পড়া মানুষের সংখ্যার অভাব নেই। এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায় সম্পর্কেই এই লেখায় জানাচ্ছেন মাহবুব শরীফ
ডিজিটাল লাইফস্টাইলের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে ইন্টারনেট। আর ইন্টারনেটের জন্য অপরিহার্য ওয়েব ব্রাউজার। ইন্টারনেটের অলি-গলিতে ঘুড়ে বেড়াতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স কিংবা অপেরার উপরেই নির্ভর করতে হয়। তবে এসব ওয়েব ব্রাউজারে ইন্টারনেটের বিশ্বে বিচরণ করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক কিছুরই মুখোমুখি হতে হয়। কোনো কোনো সাইট থেকে ভাইরাস, স্প্যামওয়্যার বা ম্যালওয়্যার আক্রমণ করে বসতে পারে আপনার ব্রাউজার ও পিসিকে। আর নানা ধরনের বিজ্ঞাপনের অত্যাচার তো আছেই। সেই সাথে বিনামূল্যের টুলবারও অজান্তেই যুক্ত হয়ে যায় ওয়েব ব্রাউজারে।
অ্যাড-ওয়্যার থেকে সাবধান
প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলোতে যেসব বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে, সেগুলো অনেকটাই নির্ভরযোগ্য এবং সেগুলো খুব একটা ঝামেলা করে না। তবে সাধারণভাবে সব ওয়েবসাইটে এখন বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। এর মধ্যেই থাকতে পারে পিসির জন্য ক্ষতিকারক উপাদান ছড়ানোর মতো অ্যাডওয়্যার। এসব অ্যাডওয়্যার আপনার ব্রাউজারের হোমপেজ বদলে দেওয়া, সার্চ এবং ইউআরএলকে অন্য ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া প্রভৃতি ঝামেলা তৈরি করে। তাই অ্যাড-ওয়্যার থেকে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।
ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন নিয়মিত
ব্রাউজার তো বটেই, সার্বিকভাবে পিসির নিরাপত্তায় প্রথম যে জিনিসটি প্রয়োজন, তা হলো ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার থেকে মুক্ত থাকা। এর জন্য নিয়মিত অ্যান্টিম্যালওয়্যার ইউটিলিটি দিয়ে পিসি ও ব্রাউজার নিয়মিত স্ক্যান করতে হবে। সাধারণভাবে পিসিতে অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করা থাকলেও ব্রাউজারের জন্য আলাদা অ্যান্টিম্যালওয়্যার স্ক্যানার ব্যবহার করা ভালো। এ ধরনের প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে অ্যাড-অ্যাওয়ার, ম্যালওয়্যারবাইটস, স্পাইবটসার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়, সুপার অ্যান্টিস্পাইওয়্যার প্রভৃতি। এগুলোর বিনামূল্যের সংস্করণ যথেষ্ট কার্যকর ম্যালওয়্যার দূর করতে। এদের মধ্য থেকে অ্যাডওয়্যার-ডাউনলোডের লিংক http://www.lavasoft.com/ products/ad_aware_free.php। ম্যালওয়্যারবাইটস ডাউনলোড করতে পারবেন http://www. malwarebytes.org সাইট থেকে। স্পাইবট সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয় ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন http://www.safer-networking.org/dl এবং সুপারঅ্যান্টিস্পইওয়্যার ডাউনলোড করতে পারবেন http://www.superantispyware.com/download.html লিংক থেকে। এসব প্রোগ্রাম সফলভাবে বাড়তি অ্যাডওয়্যার, ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার দূর করতে সক্ষম। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন, ব্রাউজার টুলবার এবং ব্রাউজার হাইজ্যাকে সক্ষম ম্যালওয়্যারও দূর করতে পারে এগুলো।
ব্রাউজার টুলবার নিস্ক্রিয় রাখুন
ওয়েব ব্রাউজারগুলোতে নানা ধরনের টুলবার যুক্ত করা থাকে। এর বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয় না। অনেক টুলবার আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যায় ব্রাউজারে নেট ব্রাউজ করার সময়। গুগল ক্রোমের অ্যাড্রেস বারটিই সার্চ বক্স হিসেবে কাজ করে। এতে কাস্টমাইজেবল বুকমার্ক মেন্যুও থাকে। তবে এর বাইরেও নানা ধরনের টুলবার রয়েছে। তাদের বাড়তি সুবিধাও রয়েছে। যেমন ইয়াহু টুলবারটি ইয়াহুর বিভিন্ন সার্ভিস ব্যবহারকারীদের জন্য উপযোগী। ইয়াহু টুলবার কার্যকরী হলেও এরকম অনেক টুলবারই রয়েছে, যেগুলো তেমন একটা কাজে আসে না। শুধু তাই নয়, এসব টুলবারের অনেকগুলোই ক্ষতিকর সাইটগুলোতে রিডাইরেক্ট করে ইউআরএলকে এবং অনেক সময় ম্যালওয়্যারও নিয়ে আসে। তাই সব ধরনের টুলবারকেই বিদায় জানানো ভালো। এতে করে ব্রাউজারটি দেখতেও বেশ পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে টুলবার দূর করতে টুলবারে মাউসের ডান বাটন ক্লিক করতে হবে। এরপর কনটেক্সট মেন্যু থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত টুলবারগুলো ডিসিলেক্ট করে দিতে হবে। অনেকগুলোতেই এরপর একে দূর করতে চূড়ান্ত সম্মতি চাইবে। সেখান থেকে disable করে দিতে হবে। ফায়ারফক্স এবং গুগল ক্রোমে অবশ্য একইভাবে কাজ হবে না। এক্সটেনশন এবং অ্যঅড-অনস-এ গিয়ে দূর করতে হবে এই দুই ব্রাউজারের টুলবার।
এক্সটেনশনও অ্যাড-অন আপডেট রাখুন
ব্রাউজিংয়ের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য এখন সব ওয়েব ব্রাউজারের জন্যই রয়েছে নানা ধরনের এক্সটেনশন এবং অ্যাড-অন। তবে এসবের অনেকগুলোই আপনার অগোচরে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করে বেড়াতে পারে। ব্রাউজারের গতিকেও ধীর করে দিতে পারে এরা। তাই বিশ্বস্ত উত্স ছাড়া এক্সটেনশন ও অ্যাড-অন ইন্সটল না করাই ভালো। ব্রাউজিংয়ের সময় আবার এসব এক্সটেনশন ও অ্যাড-অন আপনার অগোচরে বা ভুলেও ইন্সটল হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত অ্যাড-অন এবং এক্সটেনশন মনিটর করতে হবে। আর সেটা করতে গিয়ে কোনোটি সন্দেহজনক মনে হলে ভিন্ন কোনো চিন্তা না করেই সেটা ডিলিট করে দিতে হবে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে এই কাজটি করতে টুলস মেন্যু থেকে ‘manage add-ons’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর সব অ্যাড-অন তালিকাবদ্ধভাবে দেখালে সেখান থেকে সেগুলোর উপরে মাউসে ডান বাটন ক্লিক করে নিষ্ক্রিয় (disable) করে দিতে হবে। ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীরা ব্রাউজারের সবার উপরে বাম পাশের ফায়ারফক্স মেন্যুতে ক্লিক করে সেখানকার ড্রপ-ডাউন মেন্যুতে পাবেন ‘add-ons’। সেখানে এক্সটেনশন বা প্লাগ-ইন সেকশনের সবগুলো দেখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয়গুলো disable করে দিতে হবে।
গুগল ক্রোমে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে chrome://extensions লিখে এন্টার দিলেই এক্সটেনশনের তালিকা আসবে। সেখানে প্রতিটি এক্সটেশনের ডানেই disable এবং remove-এর অপশন রয়েছে। অপ্রয়োজনীয়গুলো করে remove দিতে হবে। ক্রোমের মেন্যু থেকে টুলসে গিয়েও এক্সটেনশন পাওয়া যাবে। ক্রোমে অবশ্য প্লাগ-ইন্সগুলো রয়েছে আলাদা লোকেশনে। সেখানে যেতে অ্যাড্রেস বারে লিখতে হবে chrome://plugins। এখানেও অপ্রয়োজনীয় প্লাগ-ইন্স থাকলে তা দূর করতে হবে।
হোমপেজ ও সার্চ
অনেক সময়েই দেখা যায় আপনার ব্রাউজারের হোমপেজটি পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথবা ডিফল্ট একটি সার্চ ইঞ্জিন আপনি নির্বাচন করে দিলেও সার্চ করার সাথে সাথেই অন্য একটি সার্চ সাইটে রিডাইরেক্ট হয়ে যাচ্ছে সার্চটি। টুলবার এক্সটেনশন বা অ্যাড-অন ছাড়াও নানাভাবে ব্রাউজারের সেটিংস পরিবর্তন হয়ে এমনটি হয়।
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের টুলস মেন্যু থেকে -internet option-এ গেলে পাওয়া যাবে হোমপেজ নির্ধারণ করার অপশন। গুগল ক্রোমের মেন্যু থেকে সেটিংসে গেলেই পাওয়া যাবে on-startup অপশন। সেখানেই হোমপেজ সেট করার অপশন রয়েছে। আর ফায়ারফক্স মেন্যু থেকে option-এ গেলে পাওয়া যাবে হোমপেজ সেট করার এই অপশনটি।
