কমলগঞ্জে মখাবিল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৯

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে মখাবিল পুনঃখননে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি ধাপে বিল খনন, বিলের সাথে যুক্ত নালা খনন ও পার্শ্ববর্তী রাস্তায় চারটি কালভার্ট স্থাপনের কথা থাকলেও বিল ও নালার আংশিক খনন করেই কাজ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধি প্রকল্পটির কার্যক্রম চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা এ বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। ১৬৭ হেক্টর আয়তনে মত্স্য অধিদপ্তর, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে মখাবিল পুনঃখনন কাজের জলায়তন ছিল এক দশমিক ২৮ হেক্টর। বিল পুনঃখনন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ১৮ দশমিক ৬৫ লক্ষ টাকা। পার্শ্ববর্তী লাঘাটা নদী থেকে মখাবিলের সাথে সংযুক্ত খাল পুনঃখননের জন্য ১০ লক্ষ টাকা এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে রাস্তায় চারটি কালভার্ট স্থাপনে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। জলাশয় সংস্কারের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদকে দলনেতা করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট চুক্তিবদ্ধ ভূমিহীন সমিতি গঠন করা হয়। তবে অপরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে ইতিপূর্বে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেন। এলাকাবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি মহল মত্স্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাঘাটা নদী থেকে বিলের সাথে যুক্ত নালার একাংশে খণ্ড খণ্ড কিছু কাজ দেখিয়ে অবশিষ্ট কাজ বাকি রেখেই টাকা উত্তোলনের পর প্রকল্পের কাজ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রাস্তায় চারটি কালভার্ট স্থাপন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষক নূর মোহাম্মদ তারাকী, শেরওয়ান আলী, ইসলাম উদ্দীন, মানিক মিয়া বলেন, রাস্তায় কালভার্ট স্থাপন না করায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষতি হবে। তারা আরও বলেন, বিলে নিয়ম মোতাবেক গভীরতা হয়নি এবং নালায় কিছু কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেই বন্যার অজুহাত দেখিয়ে মালামাল গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লাঘাটাছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও স্থানীয় সমাজকর্মী রেজাউল করিম বলেন, কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বিল ও খাল খনন করা হয়েছে। এই স্থানটি লাঘাটাছড়া পাবসস লি. এর আওতাভুক্ত থাকলেও এই সমিতিকে কিছুই না জানিয়ে অসম্পূর্ণ কাজ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছে।

মখাবিল সংলগ্ন বাড়ির কৃষক আকতার মিয়া অভিযোগ করে বলেন, লাঘাটা নদীর সাথে যুক্ত খাল খনন শুরু করলেও সেটি ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া কোনো পরিকল্পনা ছাড়া একপাশে পনের থেকে বিশ ফুট মাঝখানে একশ’ ফুটেরও বেশি চওড়া করা হয়েছে। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হবে না। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযোগ বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ ভূমিহীন সমিতির সভাপতি ও পতনউষার ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে কমিটির সদস্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, যেটুকু কাজ হয়েছে সেটুকুর বিল পাওয়া গেছে। কালভার্টের জন্য কোনো বিল অনুমোদন হয়নি। অবশিষ্ট কাজ বাড়িয়ে আবার করার চেষ্টা চলছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. আসাদ উল্লাহ বলেন, এই কাজ চলাকালীন সময়ে আমার দায়িত্ব ছিল না। অফিসেও এ সংক্রান্ত কোনো ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এসব বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। মৌলভীবাজার জেলা মত্স্য কর্মকর্তা আ.ক.ম শফিকুজ্জামানের মোবাইলে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি বলেন, আমি একটি সভায় আছি। পরবর্তীতে কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. আসাদ উল্লাহ মোবাইলে বলেন, আপনি আমার সাথে কথা না বলে বারবার স্যারকে ডিস্টার্ব করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মত্স্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি আমি ঠিক বলতে পারছি না। তবে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তাকে বলে দিচ্ছি তিনি তথ্য দেবেন।

প্রকল্পকালীন কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাক্তন মত্স্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্যার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। টাকা ফেরত চলে গেছে। ২য় পর্যায়ে ৪০ শতাংশ পরিমাণ খাল খনন হয়েছে এবং প্রায় ৬০ শতাংশ টাকা ফেরত চলে গেছে। তবে আবার প্রকল্প করা হলে সেখানে কাজ করা যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।