টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
টেকনাফে আবহাওয়া অনুকূল এবং কৃষি উপকরণাদি সহজলভ্য হওয়ায় এবারের চলতি রবি মৌসুমে ১৪৫৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি এখন বাজারে। যোগান বেশি থাকায় এসবের দাম বাজারে কমতে শুরু করেছে। তাছাড়া, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা এখানে আশ্রয় নেওয়ায় দীর্ঘদিন স্থানীয় বাজারে ছিল অস্থিরতা। শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ভালো ফলনে স্থানীয় মানুষের মনে এখন ফিরছে স্বস্তি।
গতকাল শুক্রবার সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত বিভিন্ন প্রকারের শাক-সবজি ও ফলমূল ইতোমধ্যে হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ, সাবরাং, শাপলাপুর, জাদিমোরা স্কুলপাড়া, নয়াপাড়া, লেদা, রইক্ষ্যং, ঊনছিপ্রাংসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়ায় শাক-সবজির দাম কমে আসছে। স্থানীয় জনসাধারণ কিছুটা স্বল্প দামে এসব শাক-সবজি পেয়ে আনন্দিত। এদিকে, স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অবস্থানের ফলে সচেতন মহল নিত্যপণ্য সংকটের শঙ্কায় ছিল। বিভিন্ন স্থান হতে শাক-সবজি আসার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের উত্পাদিত সবজি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখায় স্থানীয় তরিতরকারী বাজার সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলতি শীতকাল তথা রবি মৌসুমে স্থানীয় আলু ৫ হেক্টর, গ্রীনবল বেগুন ৬ হেক্টর, তাসাকিসান ও আলী প্রজাতির মুলা ১০৫ হেক্টর, সুরক্ষা প্রজাতির টমোটো ৪৬ হেক্টর, ১৭২১, কহিনুর ও ডন-১১ প্রজাতির ভুট্টা ১৩০ হেক্টর, বিগ-শো, ওয়াইল্ড কুইন, ভিক্টর সুপার প্রজাতির তরমুজ ৩৫ হেক্টর, টিয়া প্রজাতির করলা ১৮ হেক্টর, স্থানীয় ও সুইট মামা প্রজাতির মিষ্টি কুমড়া ৪০ হেক্টর, গ্রীনলাইন ও হাতিয়া প্রজাতির খিরা ৩৫ হেক্টর, সোন্না ক্রাউন প্রজাতির ফুলকপি ৭ হেক্টর, সেভেনটি প্রজাতির বাঁধাকপি ৩ হেক্টর, ইফসা-২ প্রজাতির সীম ৩৮ হেক্টর, আলিফ প্রজাতির লাউ ৩২ হেক্টর, কেরিনা প্রজাতির বরবটি ২৬ হেক্টর, রবি-১ প্রজাতির ঢেঁড়শ ২০ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত ফ্রান্স বীন ৩০ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত মিষ্টি আলু ৩২ হেক্টর, জিঙ্গা প্রজাতির বাদাম ১২ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত জাতের ফেলন ৭৫ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত পিয়াঁজ ১৫ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত ধনিয়া ১৭ হেক্টর, স্থানীয় ও ১৭০১ প্রজাতির মরিচ ৮৫ হেক্টর, গ্রীনলাইন খিরা ৩৫ হেক্টর, স্থানীয় উন্নত বাঙ্গী ১২ হেক্টর এবং সাচী প্রজাতির পান ৪শ ৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, টেকনাফে আবহাওয়া ভাল রয়েছে। সার-কীটনাশক ব্যবহার ও প্রাপ্তি সহজতর হওয়ার পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা, পরামর্শ ও তদারকি অব্যাহত থাকায় রবি মৌসুমে শাক-সবজিতে ভাল ফলন হয়েছে। উত্পাদিত এসব শাক-সবজির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
