গোপালগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগারের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার জ্বলে গেছে। তাই দুই দিন ধরে শহরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মানুষ একটু পানি পেতে বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছে। খাবার পানি কোনো রকমে সংগ্রহ করতে পারলেও গোসল, রান্না, কাপড়, থালাবাসন ধোয়া, গৃহস্থালিসহ অন্যান্য কাজের পানি জোগাড় করতে পারেনি। পানি নিয়ে পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগ জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় দু’ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী পৌরসভার সরবরাহকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল। এ পানি দিয়েই পৌরবাসী প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করেন। গত বুধবার রাতে গোপালগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগারের ৫শ’ কেভি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার জ্বলে যায়। সেই সাথে পুড়ে গেছে সঞ্চালন লাইনের তার। এ কারণে ১৬ আগস্ট শুক্রবার ও গত বৃহস্পতিবার তারা শহরে পানি সরবরাহ করতে পারেনি। তবে তারা শনিবার সকাল থেকে পানি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।
নিচুপাড়ার গৃহবধূ শাহিনূর বেগম বলেন, সপ্তাহ জুড়ে পৌর কর্তৃপক্ষ চাহিদার তুলনায় কম পানি সরবরাহ করেছে। আমরা ৫/৬ দিন ধরে পানি পাই না। পানি ছাড়া জীবন চলে না। তাই অর্ধ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে উদয়ন রোডের এমপি সাহেবের কল থেকে পানি নিচ্ছি। এতে খারার কাজ চলবে। কিন্তু সংসারের অন্যান্য কাজের পানিও নেই। তাই পানি সংকটে পড়ে জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গাহাটা এলাকার বাসিন্দা সমীর রায় বলেন, রান্নাঘর, রিজার্ভ ট্যাঙ্কি, ওভারহেড ট্যাঙ্কি ও বাথরুমে পানি নেই। রাথরুম করতে পারছি না। এখন গোসল অন্যত্র গিয়ে সারতে হচ্ছে। পানি কিনে খাচ্ছি। পানি সংকট চরম আকার ধারণ করায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
প্রয়াত এমপি অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুর রশীদের বড়ো ছেলে আইটি স্পেশালিস্ট কাজী হারুন অর রশীদ মিরন বলেন, শহরের উদয়ন রোডের আমাদের বাড়িতে একটি ডিপ টিউবওয়েল আছে। এখান থেকে সারা বছরই মানুষ সুপেয় পানি সংগ্রহ করে। গত ২ দিন ধরে পৌর পানি সরবরাহ নেই। তাই পানি সংগ্রহ করতে শহরবাসী আমাদের বাড়িতে ভীড় করেছেন। সেখান থেকে গভীর নলকূপ চেপে শ’শ’ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করেছেন। এ পানি শহরের অনেক মানুষের খাবার পানির চাহিদা পূরণ করছে।
শহরের নতুনবাজার রোডের বাসিন্দা এলাহি খান জানান, পানি সংগ্রহ করতে শহরের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিতে হচ্ছে। এতে পানি নিয়ে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
গোপালগঞ্জ পৌরসভা ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. নাজমুল হাসান নাজিম বলেন, পানি শোধনাগারের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। তাই শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার আমরা পৌরসভার মানুষকে পানি দিতে পারিনি। ইতিমধ্যে ট্রান্সফরমার ঠিক করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে পানি সরবরাহ করতে পারব।
