কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে রাড়ুলীর জেলেপল্লি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:২১

পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভয়াবহ ভাঙনে হুমকিতে পড়েছে রাড়ুলীর জেলে পল্লি। ভাঙনে ইতিমধ্যে অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে প্রতিদিন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে জেলে পল্লির বাসিন্দারা। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের ৩ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গফুরের ঘাট এলাকা থেকে আলাউদ্দীনের খাল পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলে পল্লির অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। জেলে পল্লির বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস জানান, অনেক আগে থেকেই ভাঙন সৃষ্টি হলেও এতটা ভয়াবহ ছিল না। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির কারণে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কুমার বিশ্বাস জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন বেড়েছে। কেয়ারের রাস্তা অনেক আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভয়াবহ ভাঙনে অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অঞ্জলী বিশ্বাস জানান, জেলে পল্লিতে আমরা ৫০ পরিবার বসবাস করি। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে প্রতিদিন ছেলেমেয়েদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আমরা সাহায্য চাই না। বসবাসের নিশ্চয়তা চাই, চাই ভাঙন রোধ।

ইউপি সদস্য জাহান আলী গাজী জানান, স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বাঁশের পাইলিং করে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ভাঙনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি কোনো পাইলিং কাজে আসছে না।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানান, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে যেকোনো সময় কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে রাড়ুলী, ভবানীপুর, বাঁকা, শ্রীকণ্ঠপুরসহ পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য জরুরিভিত্তিতে ব্লক ও খাঁচাসহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন ও একরামুল বলেন, যেখানে বেশি জরুরি সেখানেই আমরা কাজ করছি। আমরা জানতে পেরেছি রাড়ুলী জেলে সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন।