যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে বিভাগীয় ও শিল্পনগরী খুলনা। নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক, থ্রি হুইলার আর ব্যাটারিচালিত রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহাসড়ক থেকে নগরীর অলিগলি। এতে ভোগান্তির শেষ নেই নগরবাসীর। রাস্তা দিয়ে হেঁটে চললে কখন চাপা দেবে বলা মুশকিল। পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন এসব পরিবহনে। তবে যানজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়, সিমেট্রি রোড, শামসুর রহমান রোড, বেনী বাবু রোড, খানজাহান আলী রোডের ফেরিঘাট মোড়, শ্রীনগর মোড়, সাতরাস্তা মোড়, শান্তিধাম মোড়সহ সিটি কলেজ হয়ে পিটিআই মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট। একই অবস্থা পাওয়ার হাউজ মোড় থেকে শুরু করে ময়লাপোতা মোড়, আমতলা মোড়, নিরালা মোড় থেকে গল্লামারী পর্যন্ত শেরে বাংলা রোডের দীর্ঘ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা। নগরীর ফুলবাড়িগেট থেকে দৌলতপুর হয়ে ডাকবাংলো মোড় যেতে যতগুলো মোড় পড়ে তার সবগুলোর চিত্রও একই।
নগরীর সিমেট্রি রোডের ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ইজিবাইক আর ইঞ্জিনচালিত রিকশার কারণে রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচলই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাশের ব্যবসায়ী শিবু সাহাও এক কথা বলেন।
শিশু সন্তানকে নিয়ে নিরালা মোড়ে সড়ক পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ফারানা আক্তার। কিন্তু ইজিবাইকের চাপে রাস্তা পার হতে পারছিলেন না তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ইজিবাইকের কারণে আমরা বিরক্ত। খুলনায় ইজিবাইকের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে শুধু রাস্তা পার হওয়া নয়, ইজিবাইকের আধিক্যে রীতিমতো আতঙ্কিত সবাই। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় একসময়ের জনপ্রিয় যানটিই এখন নগরবাসীর কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা ট্রাফিক বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনুমোদনহীন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে খুলনা শহরে সড়ক ব্যবস্থাপনায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি হুইলার এখন খুলনার বড়ো সমস্যা। এ যানগুলোর কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনা এখন জনসাধারণের নিত্যসঙ্গী। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কেসিসি উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাড়ে ৭ হাজার ইজিবাইককে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। এগুলোতে এক রকমের রং লাগিয়ে দেওয়া হবে। শহরের বাইরের ইজিবাইক ঢুকতে দেওয়া হবে না। তখন আর যানজট থাকবে না।
