সৈয়দপুরের পল্লিতে কেঁচোর কম্পোস্ট সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। সেইসঙ্গে উপার্জন করছেন অর্থও। উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা বেলপুকুর গ্রামের সেকেন্দার আলী ও জাহানারা বেগম দম্পতি মাত্র ১ বিঘা জমিতে রবিশস্যের আবাদ করেন। শুরু থেকে তারা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছর আগে একটি এনজিও তাদের জৈবসার তৈরির উপকরণ সরবরাহ করে। এরপর থেকে এই দম্পতি বাড়িতে জৈবসার তৈরি করছেন। এ সার দিয়েই তাদের জমিতে চাষাবাদ করে পাচ্ছেন বিষমুক্ত ফসল। সেইসঙ্গে অতিরিক্ত সার বিক্রি করে মিলছে নগদ অর্থও। বাসিন্দা রফিক জানান, আগে বছরের পর বছর জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে নানা ফসল উত্পাদনসহ নানা রকমের সমস্যায় পড়তেন তারা। এতে ফসলের উত্পাদন খরচ হতো বেশি। পাঁচ বছর আগে জৈবসার দিয়ে জমিতে চাষাবাদ শুরু হয় গ্রামে। এতে সাফল্য পেতে শুরু করেন তারা। একে অন্যের দেখাদেখিতে পুরো ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে জৈবসার চাষাবাদ পদ্ধতি।
জাহানারা বেগম বলেন, তিনি বেশ কয়েক বছর আগে বিনামূল্যে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। এরপর শুরু করেন সার তৈরি। প্রথমে লালশাক, টমেটো, বাঁধাকপি ও মিষ্টি কুমড়ার খেতে জৈবসার প্রয়োগ করেন। ফলনও ভালো পান।
ঐ ইউনিয়নের পাশারিপাড়া গ্রামের মেরী জানান, একটি মাটির পাত্রে ২৫ থেকে ৩০ কেজি জৈবসার তৈরি করা হয়। এতে ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত কেঁচো পাওয়া যায়। অতিরিক্ত জৈবসার প্রতি কেজি ১৮ টাকা দরে এবং কেঁচো প্রতি কেজি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বিভিন্ন এনজিও এসব কেঁচো কিনে নেয়। জাহানারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সিমেন্টের তৈরি রিংয়ের মধ্যে সবজির উচ্ছিষ্ট, এর মধ্যে কেঁচো দিয়ে সার তৈরির জন্য রাখা হয়েছে। বর্তমানে জৈবসার দিয়ে লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, বেগুন, ক্ষিরা, টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মরিচ, করলা, নানা সবজির চাষ হচ্ছে গ্রামে।
গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের তারাগঞ্জ শাখার প্রোগ্রাম সহকারী অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, রাসায়নিক সার মুক্ত সবজি চাষে তারা খাতামধুপুর ইউনিয়নের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। এভাবে ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ জন কৃষক নিজের তৈরি সার ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন। তিনি জানান, তারা খাতামধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ন্যায্যমূল্যে কেঁচো কিনে পাশের ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেন। কৃষকদের জৈবসার দিয়ে উত্সাহিত করেন।
খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, আমাদের ইউনিয়নে উত্পাদিত জৈবসারে শাকসবজি আবাদ হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। প্রতিটি কৃষক পরিবার কেঁচো দিয়ে জৈবসার তৈরি করে ফসলের মাঠে ব্যবহার করছেন। এ ফসলের উত্পাদন ব্যয় যেমন কমেছে তেমনি সবজি উত্পাদন বেড়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হোমায়রা মণ্ডল জানান, বিষমুক্ত ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে কৃষকরা জৈবসার ব্যবহার করছেন। এ সার তারা জমিতে ব্যবহার করছেন, তেমনি কেঁচো বিক্রি করে বাড়িতে আয় করছেন।
