বাংলাদেশ আইন সমিতির সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি

‘তিন অঙ্গের সম্পর্ক গণতন্ত্র-আইনের শাসনকে সুসংহত করে’

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৩

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনটি অঙ্গের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনকে সুসংহত ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। 

তিনি বলেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করার জন্য এই তিনটি অঙ্গের সমন্বিত প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। 

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩৩তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিচারক, আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থীদের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। বিচারক ও আইনজীবীরা হচ্ছে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার। 

তিনি বলেন, একটি দেশের সরকারের কৃতিত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় বিচারক, আইনজীবী, আইনের শিক্ষক, ছাত্র, মানবাধিকার সংস্থা, সুশীলসমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আইন সমিতির সদস্যগণ তাদের পেশাগত জীবনে উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। দেশ গঠন এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন আইনজীবী শুধু আইনের উপর দখল থাকলে চলবে না, পেশাগত আচার-আচরণে সুন্দর হতে হবে। সর্বোপরি, তাকে অবশ্যই সৎ থাকতে হবে এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে হবে। কেননা বিচার নিষ্পত্তির সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আর সে কারণেই ব্যক্তিগত স্বার্থের চাইতে আদালতের প্রতি কর্তব্য এবং মক্কেলের প্রতি সেবার বিষয়টিই সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। 

আরও পড়ুন: নির্বাচনে বাধা নেই রেজা কিবরিয়ার

আইন সমিতির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান আনসারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সমিতির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ। 

ইত্তেফাক/এমআই