ভারতের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার একমাত্র বলি হিসেবে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের। তার বদলে এই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন সাবেক ভারতীয় ওপেনার ও নির্বাচক বিক্রম রাঠোর। বাঙ্গার চাকরি হারালেও টিকে গেছেন বোলিং কোচ ভরত অরুন ও ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর।
ভারতীয় জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি দলটির প্রতিটি সাপোর্ট স্ট্যাফের জন্য নতুন করে নাম সুপারিশ করেছে। এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন এমএসকে প্রসাদ। কোনো রকম স্বার্থের সংঘাত না থাকলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্বাচক কমিটির করা এই সুপারিশ চূড়ান্ত হবে।
৫০ বছর বয়সি রাঠোর ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে ভারতের হয়ে ছয়টি টেস্ট ও সাতটি ওয়ানডে খেলেছেন। তার টেস্ট গড় মাত্র ১৩.১০ এবং কখনোই সেঞ্চুরি বা ফিফটি করতে পারেননি। টেস্টে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৪৪। অন্য দিকে ওয়ানডেতে ২৭.৫৭ গড়ে ব্যাটিং করেছেন এবং দুইটি ফিফটি করতে পেরেছেন। পাঞ্জাবের হয়ে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪৬ ম্যাচে ৪৯.৬৬ গড়ে ১১,৪৭৩ রান করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেখাতে পারেননি।
অবসর নেওয়ার পর সাত বছর ইংল্যান্ডে ছিলেন রাঠোর। এরপর দেশে ফিরে পাঞ্জাবে কোচিং করিয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য ছিলেন। ঐ কমিটির প্রধান ছিলেন সন্দীপ পাতিল।
রাঠোর অনেকদিন ধরেই ভারতীয় জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। ভারতীয় বোর্ডের বেশ পছন্দের পাত্র তিনি। কিন্তু তার ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ ঘটে বলে অনেকে অনুমান করেছিলেন। এর আগে তিনি জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির ব্যাটিং উপদেষ্টা ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করে চাকরি পাননি। সে সময় মনে করা হয়েছিল, তাকে নিয়োগ দিলে স্বার্থের সংঘাত হবে। কারণ, তার ভগ্নিপতি আশিষ কাপুর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য।
এবার তার নিয়োগে এই সমস্যা থেকে গেল কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্যার ক্ষেত্রে বিসিবিআইয়ের প্রধান নির্বাহী রাহুল জোহরি বলেছেন, ‘আমরা তাদের সবাইকে নিজেদের কোনো স্বার্থের সংঘাত আছে কি না, এটা জানানোর জন্য বলেছি। ভারতীয় জাতীয় দলের কোনো সাপোর্ট স্ট্যাফ অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। ফলে তাদের এই দায়িত্ব নেওয়ার আগে অন্য চাকরি থাকলে সেটা ছেড়ে দিতে হবে। সে (রাঠোর) যদি অন্য সব ছেড়ে দেয়, তাহলে কোনো সংঘাত থাকবে না।’
সঞ্জয় বাঙ্গার আবারও ব্যাটিং কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় হয়েছেন। আর এই বিভাগে তৃতীয় হয়েছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান মার্ক রামপ্রকাশ।
ফিল্ডিং কোচ হিসেবে টিকে গেছেন শ্রীধর। এই পদে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফিল্ডার জন্টি রোডস আবেদন করেছিলেন। তিনি সেরা তিনেও আসতে পারেননি! বোলিং কোচ হওয়ার জন্য ভেঙ্কটেশ প্রসাদও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তিনি পেরে ওঠেননি। ভরত অরুনের সঙ্গে।
