ঘূর্ণনচক্র ও চুক চুক ট্রেনে স্বপ্নপুরীর গান

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৭

শিশু বলে কথা। নেই তাদের দুর্ভাবনা। নেই অন্য কোনো দুশ্চিন্তা। কেবল খেলা, খাওয়া আর ঘুম। এই তাদের জীবন। ঈদে তাদের আনন্দ থাকে সবচেয়ে বেশি। ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে তাও হয়ে গেল সপ্তাহ খানেকের বেশি। এরই মধ্যে যান্ত্রিক রাজধানী ফিরে গেছে তার চিরচেনা রূপ ‘কর্মব্যস্ততায়’। কিন্তু এখনো শিশুদের ঈদ যেন ফুরায়নি। গতকাল শ্যামলীর ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে দেখা গেল তেমনই আবহ। শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের আনাগোনায় মুখরিত ছিল পুরো পার্ক। প্রতিটি রাইডের সামনে টিকিট হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকদেরও। রাইডগুলোর মধ্যে ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপূরী’—গান বাজতেই শিশুরা ছুটছে সেই রাইডে উঠতে। রাইডগুলোর মধ্যে শিশুদের কাছে জনপ্রিয় দেখা গেল— ব্যাটারিচালিত গাড়ি, মিনি ট্রেন, হেলিকপ্টার, ঘূর্ণনচক্র, উড়োজাহাজ, থ্রিডি গ্যালারি, বাম্পার কার, ভিডিও গেমস, জাম্পিং রাইড ও সোয়ান অ্যাডভেঞ্চার। আরো আছে—কিডি রাইডস গেমস, মেরি গো রাউন্ড, চুক চুক ট্রেন, হ্যানি সুইং, প্যারাটপার, মিনি ট্রেন, টুরিস্ট ব্যাটারি কার, ভিডিও গেমস, হেলিকপ্টার কর্নার, বাউন্সি ক্যাসল, থ্রিডি গ্যালারি, ভাইকিং বোট, ওয়ান্ডার হুইলসহ আরো নানা চমকপ্রদ রাইড

রাজধানীতে শিশুদের জন্য বিনোদনের তেমন একটা সুযোগ নেই। ফলে যে দু-একটি জায়গা আছে, যে কোনো উত্সবে সেখানেই ভিড় জমায় শিশু ও তাদের অভিভাবকরা। ব্যতিক্রম নয় শ্যামলীর এ পার্কের চিত্রও। যারা ঈদের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলেন, তারা রাজধানীতে ফিরে শিশুদের বায়না মেটাতে আসছেন এখানে।

কথা হয়, আবিশা হাসানের মা সুমাইয়ার সঙ্গে। তিনি পাশের বাড়ির প্রতিবেশীসহ এসেছেন যাত্রাবাড়ী থেকে। বলেন, গ্রামের বাড়ি যশোরে গিয়েছিলাম ঈদ করতে। রাজধানীতে ফিরে মেয়েকে নিয়ে এসেছি এখানে। কারণ, শিশুদের জন্য রাজধানীতে তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। তাই এখানেই ভিড় জমান সবাই। জাম্পিং রাইডে লাফালাফিতে মেয়ের উচ্ছ্বাস মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন মা সুমাইয়া। তিনি বলেন, বাসায় ওর বাবাকে মেয়ের উচ্ছ্বাস দেখাতে ভিডিও করছি। এ বিনোদন পার্কের প্রবেশ ফি ৩০ টাকা। পার্কটি প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

ছোট্ট ছেলে আদনানের লাফালাফি ও আনন্দ দেখে বাবা আনোয়ার হোসেনের মুখেও হাসি। ঘোড়ার পিঠে ছেলেকে চড়িয়ে তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা। সন্তান যেন ভয় না পায়। আনোয়ার হোসেন বলেন, ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছি। ভাইয়ের ছেলে ও আমার ছেলেকে নিয়ে এসেছি পার্কে। ভালোই লাগছে অনেক মানুষ দেখে। ছেলের জড়তা কাটবে। কারণ, বাসায় বাচ্চারা একা একা থাকে। অনেক মানুষজন দেখালে ভয় পেয়ে যায়। সেটা কাটিয়ে উঠবে।

মিরপুর পল্লবী থেকে আসা ছয় বছরের সুহি সায়রা বলেন, এখানে খুব ভালো লাগছে। আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী, ট্রেন, ঘোড়া সব ভালো লাগে। সুহির বাবা বলেন, বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ দরকার, খোলা মাঠে খেলা ও বিনোদন দরকার। রাজধানীতে এসবের বড়ো অভাব। কিন্তু খেলার মাঠ তো নেই। তাই শিশুমেলায় এসেছি কিছুটা বিনোদন দিতে।